পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (চতুর্দশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৩০৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Sever রবীন্দ্র-রচনাবলী ভিন্ন ভিন্ন পথের জন্তে তিনি ভিন্ন ভিন্ন দূত পাঠান নি–র্তার একই দূত সকল পথেরই দূত হয়ে হান্তমুখে আমাদের সম্মুখে অবতীর্ণ হয়েছে। কিন্তু আমাদের বোঝবার প্রক্রিয়াই এই যে সত্যকে আমরা একমুহূর্তে সমগ্র করে দেখতে পাই নে। প্রথম খণ্ড খণ্ড করে, তার পরে জোড়া দিয়ে দেখি । এই উপায়ে খণ্ডের হিসাবে সত্য করে দেখতে গিয়ে সমগ্রের হিসাবে ভুল করে দেখি । ছবিতে একটি পরিপ্রেক্ষণতত্ত্ব আছে—তদনুসারে দূরকে ছোটাে করে এবং নিকটকে বড়ো করে অঁাকতে হয়। তা যদি না করি তবে ছবিটি আমাদের কাছে সত্য বলে মনে হয় না। কিন্তু সমগ্ৰ সত্যের কাছে দূর নিকট নেই, সবই সমান নিকট । এইজন্তে নিকটকে বড়ো করে ও দূরকে ছোটাে করে দেখা সারা হলে তার পরে সমগ্ৰ সত্যের মধ্যে তাকে সংশোধন করে নিতে হয় । মানুষ একসঙ্গে সমস্তকে দেখবার চেষ্টা করলে সমস্তকেই ঝাপসা দেখে বলেই প্রথমে খণ্ড খণ্ড করে তার পরে সমস্তর মধ্যে সেটা মিলিয়ে নেয় । এইজন্য কেবল খণ্ডকে দেখে সমগ্রকে যদি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে তবে তার ভয়ংকর জবাবদিহি আছে ; আবার কেবল সমগ্রকে লক্ষ্য করে থ গুকে যদি বিলুপ্ত করে দেখে তবে সেই শূন্তত তার পক্ষে একেবারে ব্যর্থ হয় । এ কয়দিন আমরা প্রাকৃতিক ক্ষেত্র এবং আধ্যাত্মিক ক্ষেত্রকে স্বতন্ত্র করে দেখছিলুম। এ রকম না করলে তাদের স্বম্পষ্ট চিত্র আমাদের কাছে প্রত্যক্ষ হতে পারে না । কিন্তু প্রত্যেকটিকে যখন স্বম্পষ্টভাবে জানা সারা হয়ে যায় তখন একটা মস্ত ভুল সংশোধনের সময় আসে। তখন পুনর্বার এই দুটিকে একের মধ্যে যদি না দেখি তাহলে বিপদ ঘটে । এই প্রাকৃতিক ও আধ্যাত্মিক যেখানে পরিপূর্ণ সামঞ্জস্য লাভ করেছে সেখান থেকে আমাদের লক্ষ্য যেন একান্ত স্খলিত না হয়। যেখানে সত্যের মধ্যে উভয়ের আত্মীয়তা আছে সেখানে মিথ্যার দ্বারা আত্মবিচ্ছেদ না ঘটাই। কেবলমাত্র ভাষা, কেবল তর্ক, কেবল মোহের দ্বারা প্রাচীর গেঁথে তুলে সেইটাকেই সত্য পদার্থ বলে যেন ভুল না করি । পূর্ব এবং পশ্চিম দিক যেমন একটি অখণ্ড গোলকের মধ্যে বিধৃত হয়ে আছে— প্রাকৃতিক এবং আধ্যাত্মিক তেমনি একটি অখণ্ডতার দ্বারা বিধৃত । এর মধ্যে একটিকে পরিহার করতে গেলেই আমরা সমগ্রতার কাছে অপরাধী হব—এবং সে অপরাধের দও অবশ্যম্ভাবী । ভারতবর্ষ যে পরিমাণে আধ্যাত্মিকতার দিকে অতিরিক্ত ঝোক দিয়ে প্রকৃতির দিকে ওক্তন হারিয়েছে, সেই পরিমাণে তাকে আজ পর্যন্ত জরিমানার টাকা গুনে দিয়ে আসতে