পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (চতুর্দশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৩০৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


२२० রবীন্দ্র-রচনাবলী

  • * * , * , , , , e.

কর্ম আমাদের দেশের জ্ঞানী সম্প্রদায় কর্মকে বন্ধন বলে থাকেন। এই বন্ধন থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হয়ে নিক্রিয় হওয়াকেই তারা মুক্তি বলেন। এইজন্ত কর্মক্ষেত্র প্রকৃতিকে র্তারা ধ্বংস করে নিশ্চিন্ত হতে চান । এইজন্য ব্রহ্মকেও তারা নিক্রিয় বলেন এবং যা কিছু জাগতিক ক্রিয়া, একে মায়া বলে একেবারে অস্বীকার করেন । কিন্তু উপনিষং বলেন— বতে বা ইমানি ভূতানি জায়ন্তে, যেন জাতানি জীবস্তি, বৎ প্রয়ন্ত্যভিসংবিশন্তি, তদ্বিজিজ্ঞাসম্ব, তদব্ৰহ্ম । র্যার থেকে সমস্তই জন্মাচ্ছে, র্যার দ্বারা জীবন ধারণ করছে, যাতে প্রয়াণ ও প্রবেশ করছে ভঁাকে জানতে ইচ্ছা করে, তিনিই ব্ৰহ্ম । অতএব উপনিষদের ব্রহ্মবাদী বলেন, ব্ৰহ্মই সমস্ত ক্রিয়ার আধার। তা যদি হয় তবে কি তিনি এই সকল কর্মের দ্বারা বদ্ধ ? একদিকে কৰ্ম আপনিই হচ্ছে, আর একদিকে ব্রহ্ম স্বতন্ত্র হয়ে রয়েছেন, পরস্পরে কোনো যোগ নেই, এ কথাও যেমন আমরা বলতে পারি নে, তেমনি তার কর্ম মাকড়সার জালের মতো শামুকের খোলার মতো তার নিজেকে বদ্ধ করছে একথাও বলা চলে না। এই জন্যই পরক্ষণে ব্রহ্মবাদী বলছেন— DDDBBB BBBD DBB DBBBS BBBB BBBB DDDS DDDD প্রয়স্তাভিসংবিশস্তি । I ব্ৰহ্ম আনন্দস্বরূপ । সেই আনন্দ হতেই সমস্ত উৎপন্ন, জীবিত, সচেষ্ট এবং রূপান্তরিত হচ্ছে । কর্ম দুই রকমে হয়—এক অভাবের থেকে হয়, আর প্রাচুর্য থেকে হয়। অর্থাং প্রয়োজন থেকে হয় বা অনিন্দ থেকে হয় । প্রয়োজন থেকে অভাব থেকে আমরা যে কৰ্ম করি সেই কৰ্মই আমাদের বন্ধন, আনন্দ থেকে যা করি সে তো বন্ধন নয়—বস্তুত সেই কৰ্মই মুক্তি। এই জন্য আনন্দের স্বভাবই হচ্ছে ক্রিয়া—আনন্দ স্বতই নিজেকে বিচিত্র প্রকাশের মধ্যে মুক্তিদান করতে থাকে। সেই জন্তই অনস্ত আনন্দের অনন্ত প্রকাশ। ব্ৰহ্ম যে আনন্দ সে এই অনিঃশেষ প্রকাশধর্মের দ্বারাই অহরহ প্রমাণ হচ্ছে। তার ক্রিয়ার মধ্যে তিনি আনন্দ এইজন্য তার কর্মের মধ্যেই তিনি মুক্তস্বরূপ।