পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (চতুর্দশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৩১৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ee 3 ब्रबौछ-ब्रध्नांबलौ কিন্তু এই বিরুদ্ধতাই যদি একান্ত সত্য হত তাহলে জগতের মধ্যে আমরা যুদ্ধকেই দেখতুম—শাস্তিকে কোথাও কিছুমাত্র দেখতুম না। অথচ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে সমস্ত দ্বন্বযুদ্ধের উপরে অখণ্ড শাস্তি বিরাজমান। তার কারণ এই বিরোধ সংসারেই আছে ব্রন্ধে নেই। আমরা তর্কের জোরে সোজা লাইনকে অনন্তকাল সোজা করে টেনে নিয়ে চলতে পারি। আমরা মনে করি অন্ধকারকে সোজা করে টেনে চললে সে অনন্তকাল অন্ধকারই থাকবে—কারণ, অন্ধকারের একটা বিশিষ্টতা আছে সেই বিশিষ্টতার কুত্ৰাপি অবসান নেই । তর্কে এই প্রকার সোজা লাইন থাকতে পারে কিন্তু সত্যে নেই। সত্যে গোল লাইন। অন্ধকারকে টেনে চলতে গেলে ধীরে ধীরে বেঁকে বেঁকে একজায়গায় সে আলোয় গোল হয়ে ওঠে। স্থখকে সোজা লাইনে টানতে গেলে সে দুঃখে এসে বেঁকে দাড়ায়— ভ্রমকে ঠেলে চলতে চলতে এক জায়গায় সে সংশোধনের রেখায় আপনি এসে পড়ে । এর একটিমাত্র কারণ অনস্তের মধ্যে বিরুদ্ধতার পক্ষপাত নেই। অখণ্ড আকাশগোলকের মধ্যে পূর্বদিকের পূর্বত্ব নেই—পশ্চিমের পশ্চিমত্ব নেই–পূর্ব পশ্চিমের মাঝখানে কোনো বিরোধ নেই, এমন কি, বিচ্ছেদও নেই। পূর্বপশ্চিমের বিশেষত্ব খণ্ড-আমির বিশেষত্বকে আশ্রয় করেই আছে । এই যে জিনিসটা ব্রহ্মের স্বরূপে নেই অথচ আছে তাকে কী নাম দেওয়া যেতে পারে ? বেদান্ত তাকে মায়া নাম দিয়েছেন—অর্থাং ব্রহ্ম যে সত্য, এ সে সত্য নয় । এ মায়া। যখনই ব্রহ্মের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে যাই তখনই একে আর দেখা যায় না। ব্রন্ধের দিক থেকে দেখতে গেলেই এ সমস্তই অখণ্ড গোলকে অনস্তভাবে পরিসমাপ্ত। আমার দিক দিয়ে দেখতে গেলেই বিরোধের মধ্যে প্রভেদের মধ্যে বছর মধ্যে বিচিত্র বিশেষে বিভক্ত । 萨 এইজন্ত যারা সেই অখণ্ড অদ্বৈতের সাধনা করেন তারা ব্রহ্মকে বিশেষ হতে মুক্ত করে বিশুদ্ধভাবে জানেন । ব্রহ্মকে নিবিশেষ জানেন । এবং এই নিবিশেষকে উপলব্ধি করাকেই তারা জ্ঞানের চরম লক্ষ্য করেন । এই যে অদ্বৈতের বিরাট সাধন, ছোটো বড়ো নানা মাত্রায় মানুষ এতে প্রবৃত্ত আছে । একেই মানুষ মুক্তি বলে। আপেল ফল পড়াকে মানুষ এক সময়ে একটা স্বতন্ত্র বিশেষ ঘটনা বলেই জানত। তারপরে তাকে একটা বিশ্বব্যাপী অতিবিশেষের সঙ্গে যুক্ত করে দিয়ে জ্ঞানের বন্ধনমোচন করে দিলে। এইটি করাতেই মানুষ জ্ঞানের সার্থকতা লাভ করলে ।