পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (চতুর্দশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৩২৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রবীক্স-রচনাবলী سO ety\ যাখাতথ্যতোইখান ব্যদধাৎ—যেখানকার যেটি অর্থ ঠিক সেইটেই একেবারে যথাতখন্ধপে বিধান করছেন। তার আর লেশমাত্র ব্যত্যয় হবার জো নেই। এই যিনি বিধান করেন তার স্ব%প কী ? তিনি কবি । এস্থলে কবি শব্দের প্রতিশব্দস্বরূপ সর্বদশী কথাটা ঠিক চলে না। কেননা এখানে তিনি ষে কেবল দেখছেন ভনয় তিনি করছেন। কবি শুধু দেখেন জানেন তা নয় তিনি প্রকাশ করেন। তিনি যে কবি, অর্থাং র্তার আনন্দ যে একটি স্বগৃঙ্খল স্কষমার মধ্যে স্থবিহিত ছন্দে নিজেকে প্রকাশ করছে, তা তার এই জগৎ মহাকাব্য দেখলেই টের পাওয়া যায়। জগং-প্রকৃতিতে তিনি কবি, মাহুষের মনঃপ্রকৃতিতে তিনি 'অধীশ্বর। বিশ্বমানবের মন যে আপনাআপনি যেমন-তেমন করে একটা কাও করছে তা নয় তিনি তাকে নিগৃঢ়ভাবে নিয়ন্ত্রিত করে ক্ষুদ্র থেকে ভূমার দিকে, স্বার্থ থেকে পরমার্থের দিকে নিয়ে চলেছেন। তিনিই হচ্ছেন পরিভূঃ । কী জগৎপ্রকৃতি কী মানুষের মন সর্বত্র তার প্রভুত্ব । কিন্তু তার কবিত্ব ও প্রভূত্ব বাইরের কিছু থেকে নিয়মিত হচ্ছে না ; তিনি স্বয়ম্ভ,=তিনি নিজেকেই নিজে প্রকাশ করেন । এই জন্যে র্তার কর্মকে র্তার বিধানকে বাইরে থেকে দেশে বা কালে বাধা দেবার কিছুই নেই—এবং এই কারণেই শাশ্বতকালে তার বিধান, এবং যথাতথরূপে তার বিধান । আমাদের স্বভাবেও এই রকম ভাববাচ্য ও কর্মবাচ্য দুই বাচ্য আছে । আমরাও হই এবং করি। আমাদের হওয়া যতই বাধামুক্ত ও সম্পূর্ণ হৰে আমাদের করাও ততই স্বন্দর ও যথাযথ হয়ে উঠবে। আমাদের হওয়ার পূর্ণতা কিসে? না, পাপশূন্ত বিশুদ্ধতায় । বৈরাগ্যদ্বারা আসক্তিবন্ধন থেকে মুক্ত হও—পবিত্র হও, নিবিকার হও । সেই ব্রহ্মচর্ষ সাধনায় তোমার হওয়৷ যেমন সম্পূর্ণ হতে থাকবে, যতই তুমি তোমার বাধামুক্ত নিষ্পাপ চিত্তের দ্বারা সর্বত্র ব্যাপ্ত হতে থাকবে, যতই সকলের মধ্যে প্রবেশের অধিকার লাভ করবে—ততই তুমি সংসারকে কাব্য করে তুলবে, মনকে রাজ্য করে তুলবে, বাহিরে এবং অন্তরে প্রভূত্ব লাভ করবে। অর্থাৎ আত্মার স্বয়ম্ভ ত্ব স্থম্পষ্ট হবে, অনুভব করবে তোমার মধ্যে একটি মুক্তির অধিষ্ঠান আছে। একই অনস্তচক্রে ভাব এবং কর্ম কেমন মিলিত হয়েছে, হওয়া থেকে করা স্বতই নিজের স্বয়ম্ভ, আনন্দে কেমন করে সৌন্দর্ষে ও ঐশ্বর্ষে বহুধা হয়ে উঠেছে, বিশুদ্ধ নিবিশেষ বিচিত্র বিশেষের মধ্যে কেমন ধরা দিয়েছেন, যিনি অকায় তিনি কায়ের কাব্যরচনা করছেন, যিনি অপাপবিদ্ধ তিনি পাপপুণ্যময় মনের অধিপতি হয়েছেন— কোনোখানে এর আর ছেদ পাওয়া যায় না—উপনিষদের ওই একটি ছোটো মন্ত্রে সে-কথা সমস্তটা বলা হয়েছে । ৪ মাঘ, কলিকাতা