পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (চতুর্দশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৩৪৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Wow, ब्रदौटा-ब्रक्रमांयलौ সেখানে সেটা জঞ্জাল হয়ে ওঠে । যেখানে যার স্থান নয় সেখানে সে ৰে জনাবগুক তা নয় সেখানে সে অনিষ্টকর। ہق অতএব আমাদের জীবনের প্রধান সাধনাই এই বাহিরের জিনিস যাতে বাহিরেই থাকতে পারে ভিতরে গিয়ে ধাতে সে বিকারের স্বষ্টি না করে । সংসারে আমাদের পদে পদে ক্ষতি হয়, আজ যা আছে কাল তা থাকে না । সেই ক্ষতিকে আমধা বাহিরের সংসারেই কেন রাখি না, তাকে আমরা ভিতরে নিয়ে গিয়ে তুলি কেন ? 酶 গাছের পাতা আজ কিশলয়ে উদগত হয়ে কাল জীর্ণ হয়ে ঝরে পড়ে। কিন্তু সে তো বাইরেই ঝরে পড়ে যায়। সেই তার বাহিরের অনিবার্য ক্ষতিকে গাছ তার মজার ভিতরে তো পোষণ করে না। বাহিরের ক্ষতি ৰাইরেই থাকে, অস্তরের পুষ্টি অস্তরেই অব্যাহতভাবে চলে । to কিন্তু আমরা সেই ভেদটুকুকে রক্ষা করি নে। আমরা বাইরের সমস্ত জমাখরচ ভিতরের খাতাতে পাকা করে লিখে অমন সোনার জলে বাধানো দামি বইটাকে নষ্ট করি। বাইরের বিকারকে ভিতরে পাপকল্পনারূপে চিহ্নিত করি, বাইরের আঘাতকে ভিতরে বেদনায় জমা করে রাখতে থাকি । আমাদের ভিতরের মহলে একটা স্থায়িত্বের ধর্ম আছে—সেখানে জমা করবার জায়গা। এইজন্তে সেখানে এমন কিছু নিয়ে গিয়ে ফেলা ঠিক নয় যা জমাবার জিনিস নয়। তা নিতে গেলেই বিকারকে স্থায়ী করে তোলা হয়। মৃতদেহকে কেউ অস্তঃপুরের ভাণ্ডারে তুলে রাখে না, তাকে বাইরে মাটিতে, জলে বা আগুনেই সমর্পণ করে দিতে হয় । মানুষের মধ্যে এই দুটি কক্ষ আছে, স্থায়িত্বের এবং অস্থায়িত্বের-অস্তরের এবং সংসারের । مر * অন্ত জন্তুদের মধ্যেও সেটা অক্ষুটভাবে আছে—তেমন গভীরভাবে নেই। সেইজন্তে অন্ত জন্তুর একটা বিপদ থেকে বেঁচে গেছে। তার, যেটা স্থায়ী নয় সেটাকে স্থায়ী করবার চেষ্টাও করে না, কারণ, স্থায়ী করবার উপায় তাদের হাতে নেই। মানুষও অস্থায়ীকে একেবারে চিরস্থায়িত্ব দান করতে পারে না বটে কিন্তু অন্তরের মধ্যে নিয়ে গিয়ে তার উপরে স্থায়িত্বের মালমসলা প্রয়োগ ক’রে তাকে যতদিন পারে টিকিয়ে রাখতে ক্ৰটি করে না। তার অন্তরপ্রকৃতি নাকি স্থায়িত্বের নিকেতন এই জন্যেই তার সুবিধাটা ঘটেছে। তার ফল হয়েছে এই যে, জঙ্কদের মধ্যে যে-সকল প্রবৃত্তি প্রয়োজনের জন্মগত হয়ে