পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (চতুর্দশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৩৭২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শান্তিনিকেতন eq \ নিষ্ঠা যখন সিদ্ধির মূর্তি কিছু পরিমাণে দেখা দেয় তখন আনন্দে আমাদের আপনি টেনে নিয়ে চলে—তখন থামায় কার সাধ্য। তখন প্রান্তি থাকে না, দুর্বলতা থাকে না। কিন্তু সাধনার আরম্ভেই সেই সিদ্ধির মূতি তো নিজেকে এমন করে দূর থেকেও প্রকাশ করে না। অথচ পথটিও তো স্বগম পথ নয়। চলি কিসের জোরে ? f এই সময়ে আমাদের চালাবার ভার যিনি নেন তিনিই নিষ্ঠ । ভক্তি যখন জাগে, হৃদয় যখন পূর্ণ হয় তখন তো আর ভাবনা থাকে না, তখন তো পথকে আর পথ বলেই জ্ঞান হয় না, তখন একেবারে উড়ে চলি। কিন্তু ভক্তি যখন দূরে, হৃদয় যখন শূন্ত সেই অত্যস্ত দুঃসময়ে আমাদের সহায় কে ? তখন আমাদের একমাত্র সহায় নিষ্ঠা । শুষ্ক চিত্তের মৃতভারকে সেই বহন করতে পারে । মরুভূমির পথে যাদের চলতে হয় তাদের বাহন হচ্ছে উট। অত্যন্ত শক্ত সবল বাহন—এর কিছুমাত্র শৌখিনতা নেই। খাদ্য পাচ্ছে না তৰু চলছে। পানীয় রস পাচ্ছে না। তবু চলছে। বালি তপ্ত হয়ে উঠেছে তবু চলছে, নিঃশবে চলছে। যখন মনে হয় সামনে বুঝি এ মরুভূমির অন্ত নেই, বুঝি মৃত্যু ছাড়া আর গতি নেই তখনও তার চলা বন্ধ হয় না । তেমনি শুষ্কতা রিক্ততার মরুপথে কিছু না খেয়ে কিছু না পেয়েও আমাদের চালিয়ে নিয়ে যেতে পারে সে কেবল নিষ্ঠা—তার এমনি শক্ত প্রাণ ষে নিন্দামানির ভিতর থেকে কাটাগুষ্মের মধ্যে থেকেও সে নিজের খাদ্য সংগ্রহ করে নিতে পারে। যখন মরুবায়ুর মৃত্যুময় ঝঞ্চ উষ্মত্তের মতে ছুটে আসে, তখন সে ধুলোর উপর মাথা সম্পূর্ণ নত করে ঝড়কে মাথার উপর দিয়ে চলে যেতে দেয়। তার মতো এমন ধীর সহিষ্ণু এমন অধ্যবসায়ী কে আছে ? • " *ự একঘেয়ে একটানা প্রান্তর—মাঝে মাঝে কেবল কল্পনার মরীচিকা পথ ভোলাতে আসে। সার্থকতার বিচিত্র রূপ ক্ষণে ক্ষণে দেখা দেয় না । মনে হয় যেন কালও যেখানে ছিলুম আজও সেখানেই আছি । মন দিতে চাই, মন ঘুৱে বেড়ায় ; হৃদয়কে ভাকাডাকি করি, হৃদয় সাড়া দেয় না। কেবলই মনে হয় ব্যর্থ উপাসনার চেষ্টায় ক্লিষ্ট হচ্ছি। কিন্তু সেই ব্যর্থ উপাসনার ভয়ানক ভার বহন করে নিষ্ঠ প্রত্যেক নিই চলতে পাৱে-দিনের পর लिन, দিনের পরদিন । r o I