পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (চতুর্দশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৩৯৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ब्रदौटज-ग्नकानांबजौ سenb ভাবে সাজায়, তাকে একটি বিশেষত্ব দান করে গড়ে তোলে । এই বিশেষত্ব-দানের দ্বারা সে যা-কিছু গড়ে তোলে তাকে সে নিজের জিনিস বলেই গৌরব বোধ করে। এই গৌরবটুকু ঈশ্বর তাকে ভোগ করতে দিয়েছেন । এই গৌরবটুকু যদি সে বোধ না করবে তবে সে দান করবে কী করে ? যদি কিছুই তার “আমার” না থাকে তবে লে দেবে কী ? অতএব দানের সামগ্ৰীটিকে প্রথমে একবার “আমার” করে নেবার জন্যে এই অহংএর দরকার। বিশ্বজগতের স্বষ্টিকর্তা ঈশ্বর বলে রেখেছেন জগতের মধ্যে যেটুকুকেই আমার আত্মা এই অহং-এর গণ্ডি দিয়ে ঘিরে নিতে পারবে তাকে তিনি আমার বলতে দেবেন—কারণ তার প্রতি যদি মমত্বের অধিকার না জন্মে তবে আত্মা যে একেবারেই দরিদ্র হয়ে থাকবে । সে দেবে কী ? বিশ্বভুবনের কিছুকেই তার আমার বলবার নেই। 赖 ঈশ্বর ওইখানে নিজের অধিকারটি হারাতে রাজি হয়েছেন। বাপ যেমন ছোটাে শিশুর সঙ্গে কুস্তির খেলা খেলতে খেলতে ইচ্ছাপূর্বক হার মেনে পড়ে যান, নইলে কুস্তির খেলাই হয় না, নইলে স্নেহের আনন্দ জমে না, নইলে ছেলের মুখে হালি ফোটে না, সে হতাশ হয়ে পড়ে ; তেমনি ঈশ্বর আমাদের মতো অনধিকারী শক্তিহীনের কাছে এক জায়গায় হার মানেন, এক জায়গায় তিনি হাসিমুখে বলতে দেন যে আমাদেরই জিত, বলতে দেন যে আমার শক্তিতেই হল, বলতে দেন যে আমারই টাকাকড়ি ধনজন আমারই সসাগরা বস্থঙ্করা। তা যদি না দেন তবে তিনি ৰে-খেলা খেলেন সেই আনন্ধের খেলায়, সেই স্বাক্টর খেলায়, আমার আত্মা একেবারেই যোগ দিতে পারে না। তাকে খেলা বন্ধ করে হতাশ হয়ে চুপ করে বসে থাকতে হয়। সেইজন্য তিনি কাঠবিড়ালির পিঠে করুণ হাত বুলিয়ে বলেন, বাবা, কালসমূত্রের উপরে তুমিও সেতু বাধছ বটে, শাবাশ তোমাকে! এই যে তিনি আমার বলবার অধিকার দিয়েছেন, এই অধিকারটি ८कन ? «ब्र চরম উদ্দেগুটি কী ? এর চরম উদ্বেগু এই যে পরমাত্মাৰ সঙ্গে আত্মার ষে একটি সমান ধর্ম জাছে সেই ধর্মটি সার্থক হবে। সেই ধর্মটি হচ্ছে স্বষ্টিৰ ধৰ্ম অর্থাৎ দেবার ধর্ম। দেবার ধর্মই হচ্ছে আনন্ধের ধর্ম। আত্মার যথার্থস্বরূপ হচ্ছে আনন্দময়ম্বন্ধপ—সেই স্বরূপে সে স্বাক্টকর্তী, অর্থাৎ দাতা। সেই স্বরূপে সে কৃপণ লয়, লে কাঙাল নয়। অহং-এর দ্বারা আমৱা “আমার জিনিস সংগ্ৰহ করি, নইলে বিসর্জন করবার আনন্দ যে মান হয়ে যাবে। নদীর জল যখন নদীতে আছে তখন সে সকলেরই জল—এখন আমার বড়ায় তুলে