পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (চতুর্দশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৩৯৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


evg রবীন্দ্র-রচনাবলী তাই বলছিলুম অহং আত্মাকে ষে কেবলই বাধছে এবং ছেড়ে দিচ্ছে সেই বাধা এবং ছেড়ে দেওয়ার দ্বারাই সে আত্মার মুক্ত-স্ব ভাবকে প্রকাশ করছে। যদি না বাধত তা হলে এই মুক্তির প্রকাশ কোথায় থাকত, যদি না ছেড়ে দিত তাহলেই বা কোথায় থাকত ? আত্মা দান করে এবং অহং সংগ্রহ করে, এই বৈপরীত্যের মধ্যে সামঞ্জস্ত কোথায় সে কথার আলোচনা কাল করেছি। আত্মা দান করবে বলেই অহং সংগ্রহ করে, এইটেই হচ্ছে ওর সামঞ্জস্ত । অহং সে কথা ভোলে—সে মনে করে সংগ্রহ করা ভোগেরই জন্তে । এই মিথ্যাকে যতই সে অঁাকড়ে ধরতে চায় এই মিথ্যা ততই তাকে দুঃখ দেয় ফাকি দেয়। আত্মা তার অহংবৃক্ষে ফল ফলাবে বটে কিন্তু ফল আত্মসাৎ করবে না, দান করবে। : আমাদের জীবনের সাধনা এই যে, অহং-এর দ্বারা আমরা আত্মাকে প্রকাশ করব । যখন তা না করে ধনকে মানকে বিদ্যাকেই প্রকাশ করতে চাই তখন অহং নিজেকেই প্রকাশ করে, আত্মাকে প্রকাশ করে না । তখন ভাষা নিজের বাহাদুরি দেখাতে চায়, ভাব মান হয়ে যায়। যারা সাধুপুরুষ তাদের অহং চোখেই পড়ে না, তাদের আত্মাকেই দেখি । সেই জন্তে তাদের মহাধনী মহামানী মহাবিদ্বান বলি নে—তাদের মহাত্মা বলি । তাদের জীবনে আত্মারই প্রকাশ স্বতরাং তাদের জীবন সার্থক। র্তাদের অহং আত্মাকে মুক্তই করছে, বাধাগ্রস্ত করছে না । এইজন্যেই আমাদের প্রার্থনা যে, আমরা যেন এই মানবজীবনে সত্যকেই প্রকাশ করি, অসত্যকে নিয়েই দিনরাত ব্যস্ত হয়ে না থাকি । আমরা যেন প্রবৃত্তির অন্ধকারের মধ্যেই আত্মাকে আচ্ছন্ন করে না রাখি, আত্মা যেন এই ঘোর অন্ধকারে আপনাকে আপনি না হারায়, মোহমুক্ত নির্মল জ্যোতিতে আপনাকে আপনি উপলব্ধি করে, সে যেন নানা অনিত্য উপকরণের সঞ্চয়ের মধ্যে পদে পদে আঘাত খেতে খেতে হাতড়ে না বেড়ায়, সে যেন আপনার অমৃতরূপকে আনন্দরূপকে তোমার মধ্যে লাভ করে । হে স্বপ্রকাশ, আত্মা যেন নিজের সকল প্রকাশের মধ্যে তোমাকেই প্রকাশ করে ; নিজের অহংকেই প্রকাশ না করে ; মানবজীবনকে একেবারে নিরর্থক করে না দেয় । ৮ চৈত্র