পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (চতুর্দশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৪২৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


লাস্তিনিকেতন Յած তা কখনোই নয়। কেননা যোগ করে করে জড়ো করে আমরা যে গেলুম। তেমনি করে সামগ্ৰীগুলোকে নিয়তই জোড়া দেবার নিরস্তর কষ্ট থেকে বাচাবার জন্তেই কি আমরা ঈশ্বরকে চাই নে ? তাকেও কি আবার একটা তৃতীয় সামগ্রী করে আমাদের বিষয় সম্পত্তির সঙ্গে জোড়া দিয়ে বসব ? অারও জঞ্জাল বাড়াব ? : কিন্তু আমাদের আত্মা যে ব্ৰহ্মকে চায় তার মানেই হচ্ছে, সে বহুর দ্বারা পীড়িত এইজন্ত সে এককে চায়, সে চঞ্চলের দ্বারা বিক্ষিপ্ত এইজন্ত সে ধ্রুবকে চায়, নূতন কিছুকে বিশেষ কিছুকে চায় না। যিনি নিত্যোহনিত্যানাং, সমস্ত অনিত্যের মধ্যে নিত্য হয়েই আছেন সেই নিত্যকে উপলব্ধি করতে চায়। যিনি রসানাং রলতম, সমস্ত রসের মধ্যেই যিনি রসতম, তাকেই চায় ; আর-একটা কোনো নূতন রসকে চায় না । সেইজন্তে আমাদের প্রতি এই সাধনার উপদেশ যে, ঈশাবাস্ত মিদং সৰ্বং যৎকিঞ্চি জগত্যাং জগং জগতে যা কিছু অাছে তারই সমস্তকে ঈশ্বরের দ্বারাই আবৃত করে দেখবে। আর-একটা কোনো অতিরিক্ত দেখবার জিনিস সন্ধান বা নির্মাণ করবে না। এই হলেই আত্মা আশ্রয় পাবে আনন্দ পাবে। এমনি করে তো নিখিলের মধ্যে তাকে জানবে। আর ভোগ করবে কী ? না, তেন ত্যক্তেন ভুল্পীথা, তিনি যা দান করছেন তাই ভোগ করবে। মাগৃধঃ কস্তস্বিদ্ধনং, আর কারও ধনে লোভ করবে না । এর মানে হচ্ছে এই যে, যেমন জগতে যা কিছু অাছে তার সমস্তই তিনি পরিপূর্ণ করে আছেন এইটেই উপলব্ধি করতে হবে তেমনি তুমি যা কিছু পেয়েছ সমস্তই তিনি দিয়েছেন বলে জানতে হবে। তা হলেই কী হবে ? না, তুমি যা কিছু পেয়েছ তার মধ্যেই তোমার পাওয়া তৃপ্ত হবে। আরও কিছু যোগ করে দাও এটা আমাদের প্রার্থনার বিষয় নয়—কারণ সে রকম দিয়ে দেওয়ার শেষ কোথায় ? কিন্তু আমি যা-কিছু পেয়েছি সমস্তই তিনি দিয়েছেন এইটেই যেন উপলব্ধি করতে পারি। তাহলেই অল্পই হবে বহু, তাহলেই সীমার মধ্যে অসীমকে পাব । নইলে সীমাকেই ক্রমাগত জুড়ে জুড়ে বড়ো করে কখনোই অসীমকে পাওয়া যায় ন+–এবং কোটির পরে কোটিকে উপাসনা করেও সেই একের উপাসনায় গিয়ে পৌছোনো যেতে পারে না। জগতের সমস্ত খণ্ড প্রকাশ সার্থকতা লাভ করেছে তার অখণ্ড প্রকাশে এবং আমাদের অসংখ্য ভোগের বস্তু সার্থকতা লাভ করেছে তারই দানে। এইটেই ঠিকমতো জানতে পারলে ঈশ্বরকে পাবার জন্তে কোনো বিশেষ স্থানের কোনো বিশেষ রূপের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াতে হয় না। এবং ভোগের তৃপ্তিহীন পৃহা মেটাবার জন্তে কোনো বিশেষ ভোগের সামগ্রীর জন্যে বিশেষভাবে লোলুপ হয়ে উঠতে হয় না। । ১৭ চৈত্র