পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (চতুর্দশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৪৬৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


8穗莎 ब्रर्दौटा-ब्रळ्नांदलौ জপমালকে জাম্বাতকে উদার শক্তির সঙ্গে বহন করবার জন্ত দিনে দিনে প্রভত হচ্ছে এবং ষে জ্যোতির্ময় পরমানন্দধারা বিশ্বের দুই কুলকে উদ্বেল করে দিয়ে নিরন্তরধারায় দিগ দিগন্তরে ঝরে পড়ে যাচ্ছে জীবনকে তারই কাছে নত করে ধরবার জন্তে তার একটি আহবান শুনতে পাচ্ছে । * , এই তপোবনটির মধ্যে একটি নিগৃঢ় রহস্যময় স্বাক্টর কাজ চলছে সেই রহস্তটি আমাদের মধ্যে কে দেখতে পাচ্ছে! যে একটি জীবন দেহের আবরণ আজ ঘুচিয়ে দিয়ে পরমপ্রাণের পদপ্রান্তে আপনাকে সম্পূর্ণ সমর্পণ করে দিয়েছে সেই জীবনের ভাষাযুক্ত স্বরমুক্ত অতি বিশুদ্ধ আনন্দ এখানকার নিন্তব্ধ আকাশের মধ্যে নির্মল ভক্তিরসে সরস একটি পবিত্র বাণীকে কেবলই বিকীর্ণ করছে, কেবলই বলছে তিনি আমার প্রাণের আরাম আত্মার শাস্তি মনের আনন্দ, সে বলা আর শেষ হচ্ছে না। সেই আনন্দের কাজ আর ফুরোল না। জগতে একমাত্র আনন্দই যে স্বষ্টি করে, স্বষ্টির শক্তি তো আর কিছুবই নেই। এখানকার আকাশপ্লাবী অবারিত আলোকের মাঝখানে বসে আনন্দের সঙ্গে তার যে আনন্দ মিলেছিল, সেই আনন্দ সেই আনন্দসম্মিলন তো শূন্ততার মধ্যে বিলীন হতে পারে না। এই আনন্দই আজও স্বষ্টি করছে, এই আশ্রমকে স্বষ্টি করে তুলছে, এখানকার গাছপালা শুামলতার উপরে একটি প্রগাঢ় শাস্তির স্বক্ষিপ্ত অঞ্জন প্রতিদিন যেন নিবিড় করে মাখিয়ে দিচ্ছে। অনেকদিনের অনেক স্থগভীর আনন্দ-মুহূর্ত এখানকার সূর্যোদয়কে, স্বর্ধাস্তকে এবং নিশিথ রাত্রের নীরব নক্ষত্ৰলোককে দেবধি নারদের বীণার তারগুলির মতো অনির্বচনীয় ভক্তির স্বরে আজও কম্পিত করে তুলছে। সেই আনন্দন্থটির অমৃতময় রহস্ত আমরা আশ্রমবাসীরা কি প্রতিদিন উপলব্ধি করতে পারব না? একদিন একজন সাধক অকস্মাৎ কোথা থেকে কোথায় যেতে এই ছায়াশূন্ত বিপুল প্রাস্তরের মধ্যে যুগল সপ্তপর্ণ গাছের তলায় বসলেন, সেই দিনটি আর মরল না। সেই দিনটি বিশ্বকৰ্মার স্বষ্টিশক্তির মধ্যে চিরদিনের মতো আটকা পড়ে গেল। শূন্ত প্রান্তরের পটের উপরে রঙের পর রং, প্রাণের পর প্রাণ ফলিয়ে তুলতে লাগল। যেখানে কিছুই ছিল না, যেখানে ছিল বিভীষিকা সেখানে একটি পূর্ণতার মূর্তি প্রথমে অভিালে দেখা দিল তার পরে ক্রমে ক্রমে দিনে দিনে বর্ষে বর্ষে স্পষ্টতর হয়ে উঠতে লাগল। এই যে আশ্চর্ষ রহস্ত, জীবনের নিগূঢ় ক্রিয়, আনন্ধের নিত্যলীলা, লে কি জামরা এখানকার শালবনের মর্মরে, এখানকার আম্রবনের ছায়াতলে উপলব্ধি করতে পারব না? শরতের অপরিমেয় শুভ্রত যখন এখানে শিউলি ফুলের অজস্র বিকাশের মধ্যে আপনাকে প্রভাতের পর প্রভাতে ব্যক্ত করে করে কিছুতে আর ক্লাস্তি মানতে