পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (চতুর্দশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৪৭০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


*ांखेिनिटुकडन 歌 8(?& চায় না তখন সেই অপর্যাপ্ত পুষ্পবৃষ্টির মধ্যে আরও একটি অপরূপ শুভ্রতার অমৃতবর্ষণ কি নিশৰে জামাদের জীবনের মধ্যে অবতীর্ণ হতে থাকে না ? এই পৌষের শীতের প্রভাতে দিকৃপ্রান্ডের উপর থেকে একটি স্বল্প শুভ্র কুহেলিকার আচ্ছাদন যখন উঠে যায়, আমলকীকুঞ্জের ফলভারপূর্ণ কম্পিত শাখাগুলির মধ্যে উত্তর বায়ু সূর্বকিরণকে পাতায় পাতায় নৃত্য করাতে থাকে এবং সমস্ত দিন শীতের রৌত্র এখানকার অবাধ-প্রসারিত মাঠের উপরকার স্থদুরতাকে একটি অনির্বচনীয় বাণীর দ্বারা ব্যাকুল করে তোলে, তখন এর ভিতর থেকে আর একটি গভীরতর আনন্দ-সাধনার স্মৃতি কি আমাদের হৃদয়ের মধ্যে ব্যাপ্ত হয়ে পড়ে না ? একটি পবিত্র প্রভাব, একটি অপরূপ সৌন্দৰ, একটি পরম প্রেম কি ঋতুতে ঋতুতে ফলপুপপল্লবের নব নব বিকাশে আমাদের সমস্ত অন্তঃকরণে তার অধিকার বিস্তার করছে না ? নিশ্চয়ই করছে। কেননা এই খানেই ষে একদিন সকলের চেয়ে বড়ো রহস্তনিকেতনের একটি দ্বার খুলে গিয়েছে। এখানে গাছের তলায় প্রেমের সঙ্গে প্রেম মিলেছে, দুই আনন্দ এক হয়েছে । যেই—এযঃ অস্ত পরম আনন্দঃ, যে ইনি ইহার পরমানন্দ সেই ইনি এবং এ কতদিন এইখানে মিলেছে —হঠাৎ কত উষার আলোয়, কত দিনের অবসানবেলায়, কত নিশীথ রাত্রের নিস্তব্ধ প্রহরে—প্রেমের সঙ্গে প্রেম, আনন্দের সঙ্গে আনন্দ ! সেদিন ঘে-দ্বার খোলা হয়েছে সেই দ্বারের সমুখে এসে আমরা দাড়িয়েছি, কিছুই কি শুনতে পাব না ? কাউকেই কি দেখা যাবে না ? সেই মুক্ত দ্বারের সামনে আজ আমাদের উৎসবের মেলা বসেছে, ভিতর থেকে কি একটি আনন্দগান বাহির হয়ে এসে আমাদের এই সমস্ত দিনের কলরবকে স্বধাসিক্ত করে তুলবে না ? না, তা কখনোই হতে পারে না। বিমুখ চিত্তও ফিরবে, পাষাণহৃদয়ও গলবে, শুষ্ক শাখাতেও ফুল ফুটে উঠবে। হে শাস্তিনিকেতনের অধিদেবতা, পৃথিবীতে যেখানেই মানুষের চিত্ত বাধামুক্ত পরিপূর্ণ প্রেমের দ্বারা তোমাকে স্পর্শ করেছে সেইখানেই অমৃতবর্ষণে একটি আশ্চর্ষ শক্তি সঞ্জাত হয়েছে। সে-শক্তি কিছুতেই নষ্ট হয় না, সে-শক্তি চারিদিকের গাছপালাকেও জড়িয়ে ওঠে, চারিদিকের বাতাসকে পূর্ণ করে। কিন্তু তোষার এই একটি আশ্চর্ষ লীলা, শক্তিকে তুমি আমাদের কাছে প্রত্যক্ষ করে রেখে দিতে চাও না। তোমার পৃথিবী আমাদের একটি প্রচণ্ড টানে টেনে রেখেছে, কিন্তু তার দড়িয়ড়া তার টানাটানি কিছুই চোখে পড়ে না । তোমার বাতাস আমাদের উপর যে ভাৱ চাপিয়ে রেখেছে সেটি কম ভার নয়, কিন্তু বাতাসকে আমরা ভারী বলেই জানি নে । তোমার স্বৰ্ধালোক নানাপ্রকারে আমাদের উপর ৰে শক্তিপ্রয়োগ করছে যদি গণনা করতে যাই তার পরিমাণ দেখে আমরা শুষ্ঠিত হয়ে ঘাই কিন্তু তাকে আমরা জালেমেলেই জানি শক্তি বলে জানি নে । S8|\be *