পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (চতুর্দশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৫২৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


(t? § ब्रदौटश्-क्रमांबलौ কিন্তু বিরুদ্ধ করেন নি। তাকে হারানো মানেই হচ্ছে মঙ্গলকে হারানো, শক্তিকে হারানে, সামঞ্জস্তকে হারানো এবং সত্যকে হারানো । তাই আজ আমাদের মধ্যে দুৰ্গতির সীমা পরিসীমা নেই, যা ভালো তা কেবলই বাধা পায়, পদেপদেই খণ্ডিত হতে থাকে, তার ক্রিয়া সর্বত্র ছড়াতে পায় না । সদনুষ্ঠান একজন মামুষের আশ্রয়ে মাথা তোলে এবং তার সঙ্গে সঙ্গেই বিলুপ্ত হয়, কালে কালে পুরুষে পুরুবে তার অনুবৃত্তি থাকে না। দেশে যেটুকু কল্যাণের উদ্ভব হয় তা কেবলই পদ্মপত্রে শিশির বিন্দুর মতে টলমল করতে থাকে। তার কারণ আর কিছুই নয় আমরা খাওয়া শোওয়া ওঠা বসায় ষে সাত্ত্বিকতার সাৰনা বিস্তার করেছিলুম তাই আজ লক্ষ্যহীন প্রাণহীন হয়ে বিকৃত হয়ে উঠেছে। তার যা উদ্বেগু ছিল ঠিক তারই বিপরীত কাজ করছে । যে-বিশ্ববোধকে সে অবারিত করবে তাকেই সে সকলের চেয়ে আবরিত করছে। দুই পা আস্তর একএকটি প্রভেদকে সে স্বাক্ট করে তুলছে এবং মানব-ঘৃণার কাটাগাছ দিয়ে অতি নিবিড় করে তার বেড়া নির্মাণ করছে। এমনি করেই ভূমাকে আমরা হারালুম, মচুন্যত্বকে তার বৃহংক্ষেত্রে দাড় করাতে আর পারলুম না, নিরর্থক কতকগুলি আচার মেনে চলাই আমাদের কর্ম হয়ে দাড়াল শক্তিকে বিচিত্র পথে উদারভাবে প্রসারিত করা ছল না, চিত্তের গতিবিধির পথ সংকীর্ণ হয়ে এল, আমাদের আশা ছোটো হয়ে গেল, ভরসা রইল না, পরম্পরের পাশে এসে দাড়াবার কোনো টান নেই, কেবলই তফাতে তফাতে সরে যাবার দিকেই তাড়না, কেবলই টুকরো টুকরো করে দেওয়া, কেবলই ভেঙে ভেঙে পড়া -শ্রদ্ধা নেই, সাধনা নেই, শক্তি নেই, আনন্দ নেই ; ষে-মাছ সমুদ্রের সে যদি অন্ধকার গুহার ক্ষুদ্র বন্ধ জলের মধ্যে গিয়ে পড়ে তবে সে যেমন ক্রমে অন্ধ হয়ে ক্ষীণ হয়ে আসে, তেমনি আমাদের যে আত্মার স্বাভাবিক বিহারক্ষেত্র হচ্ছে বিশ্ব, জানন্দলোক হচ্ছেন ভূম, তাকে এই সমস্ত শত-খণ্ডিত খাওয়া-ছোওয়ার ছোটাে ছোটাে গণ্ডির মধ্যে আবদ্ধ করে প্রতিদিন তার বুদ্ধিকে অন্ধ, হৃদয়কে বন্দী এবং শক্তিকে পঙ্গু করে ফেলা হচ্ছে। নিতান্ত প্রত্যক্ষ এই মহতী বিনষ্টি হতে কে আমাদের বাচাবে ? আমাদের সত্য করে তুলৰে কিসে? এর যে যথার্থ উত্তর সে আমাদের দেশেই আছে। ইহ চেং অবদাং অর্থ সত্যমস্তি, নচেৎ ইহ অবেীং মহতী বিনষ্টি । ইহাকে যদি জানা গেল তবেই সত্য হওয়া গেল, ইহাকে যদি না জানা গেল তবেই মহাবিনাশ। একে কেমন করে জানতে হবে ? না, ভূতেষু ভূতেষু বিচিন্তা—প্রত্যেকের মধ্যে সকলেরই মধ্যে তাকে চিন্তা করে তাকে দর্শন • করে। গৃহেই বল, সমাজেই বল, রাষ্ট্রেই বল, যে-পরিমাণে সকলের মধ্যে আমরা সেই সৰ্বাহুৰূকে উপলব্ধি করি সেই পরিমাণেই সত্য হই ; ষে-পরিমাণে না করি সেই