পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (চতুর্দশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৯৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রবীন্দ্র-রচনাবলী দোসর ওগো, দোসর আমার, সে ডাক তব কত ভাষায় কয় যে কথা নব নব । চমকে উঠে ছুটি যে তাই বাতায়নে, সকল কাজে বাধা পড়ে, বসে থাকি আপন মনে ;— পারের পাখি আকাশে ধায় উধাও গানে চেয়ে থাকি তাহার পানে । দোসর আমার, দোসর ওগো, যে বাতাসে বসন্ত তার পুলক জাগায় ঘাসে ঘাসে, ফুল-ফোটানো তোমার লিপি সেই কি আনে গুঞ্চরিয়া মর্মরিয়া কী বলে যায় কানে কানে, কে যেন তা বোঝে আমার বক্ষতলে, ভাসে নয়ন আক্রজলে । দোসর ওগো, দোসর আমার, কোন স্থদূরে ঘরছাড়া মোর ভাবনা বাউল বেড়ায় ঘুরে । তারে যখন শুধাই, সে তো কয় না কথা, নিয়ে আসে স্তন্ধ গভীর নীলাম্বরের নীরবতা । একতারা তার বাজায় কতু গুনগুনিয়ে, রাত কেটে যায় তাই শুনিয়ে । দোসর ওগে, দোসর অামার, উঠল হাওয়া,— এবার তবে হ’ক আমাদের তরী বাওয়া । দিনে দিনে পূর্ণ হল ব্যথার বোঝা, তীরে তীরে ভাঙন লাগে, মিথ্যে কিসের বাসা খোজা । একে একে সকল রশি গেছে খুলে, ভাসিয়ে এবার দাও অকুলে । দোসর ওগো, দোসর অামার, দাও না দেখা, সময় হল একার সাথে মিলুক একা ।