পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (চতুর্বিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/১৭৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রবীন্দ্র-রচনাবলী فیونا نام " একেবারে তাজা বর্বরের প্রতি । পুলকিত হয়ে ওঠে তাদের অপমানের কঠোরতায়, পিছন পিছন রসাতল পর্যন্ত যেতে রাজি । g f N/বাশরি। তার কারণ মেয়ের অভিসারিকার জাত। এগিয়ে গিয়ে যাকে চাইতে হয় তার দিকেই ওদের পুরো ভালোবাসা। ওদের উপেক্ষ তারই পরে দুর্বত্ত হবার মতো জোর নেই যার কিম্বা দুর্লভ হবার মতো তপস্যা । ক্ষিতীশ । আচ্ছা, বোঝা গেল, সন্ন্যাসীকে ভালোবাসে ঐ স্থৰ্যমা। তার পরে ? বঁশিরি । সে কী ভালোবাসা । মরণের বাড়া ! সংকোচ ছিল না, কেননা একে সে ভক্তি বলেই জানত। পুরন্দর দূরে যেত আপন কাজে, স্বযমা তখন যেত শুকিয়ে, মুখ হয়ে যেত ফ্যাকাসে। চোখে প্রকাশ পেত জালা, মন শৃষ্ঠে শূন্তে খুজে বেড়াত কার দর্শন । বিষম ভাবনা হল মায়ের মনে । একদিন আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘র্বাশি, কী করি। আমার বুদ্ধির উপর তখন তার ভরসা ছিল । আমি বললেম, ‘দাও-না পুরন্দরের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে । তিনি তো আঁৎকে উঠলেন ; বললেন, ‘এমন কথা ভাবতেও পার ? তখন নিজেই গেলুম পুরন্দরের কাছে। সোজা বললুম, ‘নিশ্চয়ই জানেন, সুষমা আপনাকে ভালোবাসে । ওকে বিয়ে করে উদ্ধার করুন বিপদ থেকে। এমন করে মানুষটা তাকাল আমার মুখের দিকে, রক্ত জল হয়ে গেল । গম্ভীর স্বরে বললে, ‘সুষম আমার ছাত্রী, তার ভার আমার পরে, আর আমার ভার তোমার পরে নয়। পুরুষের কাছ থেকে ঐতবড়ো ধাক্কা জীবনে এই প্রথম। ধারণ ছিল, সব পুরুষের পরেই সব মেয়ের আবদার চলে, যদি নিঃসংকোচ সাহস থাকে। দেখলুম দুর্ভেন্ত দুর্গও আছে। মেয়েদের সাংঘাতিক বিপদ সেই বন্ধ কপাটের সামনে, ডাকও আসে সেইখান থেকে কপালও ভাঙে সেইখানটায় । ক্ষিতীশ । আচ্ছা বঁাশি, সত্যি করে বলো, সন্ন্যাসী তোমারও মনকে টেনেছিল কিনা । ه H বঁাশরি। দেখো, সাইকলজির অতি স্বস্ত্র তত্বের মহলে কুলুপ দেওয়া ঘর। নিষিদ্ধ দরজা না খোলাই ভালো ; সদরমহলেই যথেষ্ট গোলমাল, সামলাতে পারলে বাচি । আজ যে-পর্যন্ত শুনলে তার পরের অধ্যায়ের বিবরণ পাওয়া যাবে একখানা চিঠি থেকে । পরে দেখাব | ক্ষিতীশ । ঘরের মধ্যে চেয়ে দেখো, বাশি । পুরন্দর আঙটি বদল করাচ্ছে। জানলার থেকে স্বযমার মুখের উপর পড়েছে রোদের রেখা। স্তন্ধ হয়ে বসে আছে, শান্ত মুখ, জল ঝরে পড়ছে দুই চোখ দিয়ে। বরফের পাহাড়ে যেন পূর্বাস্ত, গলে পড়ছে देब्रुनो | * o