পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (চতুর্বিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/১৯৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রবীন্দ্র-রচনাবলী א"bל জোড়াতাড়া দিতে বসেছ— বুঝতেই পারছ না তার সজীব পদার্থ, তোমার প্ল্যানের মধ্যে খাপ-খাওয়াবার জন্য তৈরি হয় নি। আমাদের মোহ সুন্দর, আর-ভয়ংকর তোমাদের মোহ । পুরন্দর। মোহ নইলে স্বষ্টি হয় না, মোহ ভাঙলে প্রলয়, এ কথা মানতে রাজি আছি। কিন্তু, তুমিও এ কথা মনে রেখে, আমার স্বষ্টি তোমার স্থষ্টির চেয়ে অনেক উপরে। তাই আমি নির্মম হয়ে তোমার মুখ দেব ছারখার করে। আমিও চাইব না মুখ ; যারা আসবে আমার কাছে মুখের দিক থেকে, মুখ দেব ফিরিয়ে । আমার ব্ৰতই আমার স্বষ্টি, তার ষা প্রাপ্য তা তাকে দিতেই হবে। যতই কঠিন হোক । বঁাশরি। সেইজম্ভেই সজীব নয় তোমার আইডিয়া, সন্ন্যাসী। তুমি জান মন্ত্র, জান না মানুষকে । মানুষের মর্মগ্রন্থি টেনে ছিড়ে সেইখানে তোমার. কেঠো আইডিয়ার ব্যাণ্ডেজ বেঁধে অসহ ব্যথার পরে মস্ত মস্ত বিশেষণ চাপা দিতে চাও । তাকে বল শাস্তি ? টিকবে না ব্যাণ্ডেজ, ব্যথা যাবে থেকে। তোমরা সব অমানুষ, মানুষের বসতিতে এলে কী করতে। যাও-না তোমাদের গুহাগহবরে বদরিকাশ্ৰমে । সেখানে মনের সাধে নিজেদের শুকিয়ে পাথর করে ফেলে । আমরা সামান্ত মানুষ, আমাদের তৃষ্ণার জল মুখের থেকে কেড়ে নিয়ে মরুভূমিতে ছড়িয়ে দিয়ে তাকে সাধনা বলে প্রচার করতে চাও কোন করুণায়। ব্যর্থজীবনের অভিশাপ লাগবে না তোমাকে ? যা নিজে ভোগ করতে জান না তা ভোগ করতে দেবে না ক্ষুধিতকে ? সুষমার প্রবেশ এই যে সুষমা, শোন বলি। মরিয়া হয়ে মেয়েরা চিতার আগুনে মরেছে অনেক, ভেবেছে তাতেই পরমার্থ। তেমনি করেই নিজের হাতে নিজের ভাগ্যে আগুন লাগিয়ে দিনে দিনে মরতে চাস জলে জলে ? চাস নে তুই ভালোবাসা, কিন্তু যে-মেয়ে চায়, পাষাণ সে করে নি আপন নারীর প্রাণ, কেন কেড়ে নিতে এলি তার চিরজীবনের আনন্দ। এই আমি আজ বলে দিলুম তোকে, ঘোড়ায় চড়িস, শিকার করিস, সন্ন্যাসীর কাছে মন্ত্র নিস, তবু তুই পুরুষ নোস— আইডিয়ার সঙ্গে গাটছড়া বেঁধে তোর দিন কাটবে না গো, তোর রাত বিছিয়ে দেবে কাটার শয়ন । しイ সোমশংকরের প্রবেশ সোমশংকর। বঁাশি, শাস্ত হও, চলে এখান থেকে । o বাশরি। যাব না তো কী । মনে কোরো ন মৱব বুক ফেটে । জীবন হবে