পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (চতুর্বিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/২২৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


& Xb- রবীন্দ্র-রচনাবলী বোবার শত্রু নেই ষে পুরুষ বলেছিল সে নিশ্চয় ছিল জবিবাহিত । কোনো জবাব দিলুম না দেখে কলিকা দ্বিগুণ ঝোঁকে উঠে বললে, “বৰ্ণভেদ তুমি মুখে অগ্রাহ কর অথচ কাজে তার প্রতিকারের জন্ত কিছুই কর না। জামরা খঙ্গর পরে পরে সেইভেদটার উপর অখও সাদা রঙ বিছিয়ে দিয়েছি, আবরণভেদ তুলে দিয়ে বর্ণভেদটার ছাল ছাড়িয়ে ফেলেছি।” Fa i ৰলতে ষাচ্ছিলুম,বৰ্ণভেদকে মুখেই অগ্রাহ করেছিলুম বটে যখন থেকে মুসলমানের রার মুরগির ঝোল গ্রাহ করেছিলুম। সেটা কিন্তু মুখস্থ বাক্য নয়, মুখস্থ কার্য— তার গতিটা অস্তরের দিকে । কাপড় দিয়ে বর্ণ-বৈষম্য ঢাকা দেওয়াটা বাহিক ; ওতে ঢাকা দেওয়াই হয়, মুছে দেওয়া হয় না।’ তর্কটাকে প্রকাশ করে বলবার যোগ্য সাহস কিন্তু হল না। আমি ভীরু পুরুষমানুষ মাত্র, চুপ করে রইলুম। জানি আপসে আমরা দুজনে যে-সব তর্ক শুরু করি কলিকা সেগুলিকে নিয়ে ধোবার বাড়ির কাপড়ের মতো জাছড়িয়ে কচলিয়ে আনে তার বাহিরের বন্ধুমহল থেকে। দর্শনের প্রফেসর নয়নমোহনের কাছ থেকে প্রতিবাদ সংগ্রহ করে তার দীপ্ত চক্ষু নীরব ভাষায় আমাকে বলতে থাকে, “কেমন ! জবা " 靜 নয়নের ওখানে নিমন্ত্রণে যাবার ইচ্ছা আমার একটুও ছিল না। নিশ্চয় জানি, হিন্মু-কালচারে সংস্কার ও স্বাধীন বুদ্ধি, আচার ও বিচারের আপেক্ষিক স্থানটা কী, এবং সেই আপেক্ষিকতায় আমাদের দেশকে অন্ত সকল দেশের চেয়ে উৎকর্ষ কেন দিয়েছে, এই নিয়ে চায়ের টেবিলে তপ্ত চায়ের ধোয়ার মতোই সূক্ষ্ম আলোচনায় বাতাস আর্ক্স ও আচ্ছন্ন হবার আশু সম্ভাবনা আছে । এদিকে সোনালি পত্ৰলেখায় মণ্ডিত অখণ্ডিতপত্রবর্তী নবীন বহিগুলি সন্ত দোকান থেকে আমার তাকিয়ার পাশে প্রতীক্ষা করছে, শুভদৃষ্টিমাত্র হয়েছে, কিন্তু এখনো তাদের ব্রাউন মোড়কের অবগুণ্ঠনমোচন হয় নি; তাদের সম্বন্ধে আমার পূর্বরাগ প্রতি মুহূর্তে অস্তরে অস্তরে প্রবল হয়ে উঠছে। তবু বেরোতে হল ; কারণ ধ্রুবত্রতার ইচ্ছাবেগ প্রতিহত হলে সেটা তার বাক্যে ও অবাক্যে এমন সকল ঘূর্ণরূপ ধারণ করে যেটা আমার পক্ষে স্বাস্থ্যকর নয়। বাড়ি থেকে অল্প একটু বেরিয়েছি। যেখানে রাস্তার ধারে কলতলা পেরিয়ে খোলার চালের ধারে স্থলোদর হিন্দুস্থানী ময়রার দোকানে তেলে-ভাজা নানা প্রকার অপথ্য স্বষ্টি হচ্ছে, তার সামনে এসে দেখি ৰিষম একটা হল্লা । আমাদের প্রতিবেশী মাড়োয়ারিরা নানা বহুমূল্য পূজোপচার নিয়ে যাত্রা করে সবে-মাত্র বেরিয়েছে। এমন সময় এই জায়গাটাতে এসে ঠেকে গেল। শুনতে পেলেম মার-মার্ক্স ধ্বনি। মনে ভাবলুম, কোনো গাটকাটাকে শাসন চলছে। f