পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (চতুর্বিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/২৮০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কালাস্তর , २१* আপস করিয়া থাকা শক্ত। যুরোপেও রাজায় পোপে বাও-কষাকষির অন্ত ছিল না । i কারবার জিনিসটা দেনাপাওনার জিনিস ; তাহাতে ক্রেতা বিক্রেতা উভয়েরই উভয়ের মন রাখিবার গরজ আছে। প্রভূত্ব জিনিসটা ঠিক তার উলটা, তাহাতে গরজ কেবল এক পক্ষের। তাহাতে এক পক্ষ বোঝা হইয়া চাপিয়া বসে অন্ত পক্ষই তাহা বহন করে । প্রভুত্ব জিনিসটা একটা ভার, মাহুষের সহজ চলাচলের সম্বন্ধের মধ্যে একটা বাধা। এইজন্ত প্ৰভূত্বই যত-কিছু বড়ে বড়ে লড়াইয়ের মূল। বোঝা নামাইয়া ফেলিতে যদি না পারি অন্তত বোঝা সরাইতে না পারিলে বাচি না। পালকির বেহারা তাই বার বার কাধ বদল করে। মানুষের সমাজকেও এই প্রভুত্বের বোঝা লইয়া বার বার কঁাধ বদল করিতে হয়— কেননা তাহা তাহাকে বাহির হইতে চাপ দেয় । বোঝা অচল হইয়া থাকিতে চায় বলিয়াই মানুষের প্রাণশক্তি তাহাকে সচল করিয়৷ তোলে । এইজন্তই লক্ষ্মী চঞ্চল । লক্ষ্মী যদি আচঞ্চল হইতেন তবে মানুষ র্বাচিত না। ইতিপূর্বে মানুষের উপর প্রভূত্বচেষ্টা ব্রাহ্মণক্ষত্রিয়ের মধ্যেই বন্ধ ছিল— এই কারণে তখনকার যতকিছু শস্ত্রের ও শাস্ত্রের লড়াই তাহাদিগকে লইয়া । কারবারীরা হাটে মাঠে গোঠে ঘাটে ফিরিয়া বেড়াইত, লড়াইয়ের ধার ধারিত না । সম্প্রতি পৃথিবীতে বৈশুরাজক যুগের পত্তন হইয়াছে। বাণিজ্য এখন আর নিছক বাণিজ্য নহে, সাম্রাজ্যের সঙ্গে একদিন তার গান্ধৰ্ব বিবাহ ঘটিয়া গেছে। একসময়ে জিনিসই ছিল বৈশ্বের সম্পত্তি, এখন মানুষ তার সম্পত্তি হইয়াছে । এ সম্বন্ধে সাবেককালের সঙ্গে এখনকার কালের তফাত কী তাহা বুঝিয়া দেখা যাক । সে আমলে যেখানে রাজত্ব রাজাও সেইখানেই— জমাখরচ সব একজায়গাতেই । । কিন্তু এখন বাণিজ্যপ্রবাহের মতো রাজত্বপ্রবাহেরও দিনরাত আমদানি রফতানি চলিতেছে। ইহাতে পৃথিবীর ইতিহাসে সম্পূর্ণ একটা নূতন কাও ঘটতেছে— তাহ এক দেশের উপর আর-এক দেশের রাজত্ব এবং সেই দুই দেশ সমূত্রের দুই পারে। এত বড়ো বিপুল প্রভুত্ব জগতে আর-কখনো ছিল না। যুরোপের সেই প্রভুজের ক্ষেত্র এশিয়া ও আফ্রিকা । এখন মুশকিল হইয়াছে জর্মনির । তার ঘুম ভাঙিতে বিলম্ব হইয়াছিল। সে ভোজের শেষবেলায় হাপাইতে হাপাইতে আসিয়া উপস্থিত। ক্ষুধা যথেষ্ট, মাছেরও গন্ধ পাইতেছে অথচ কাটা ছাড়া আর বড়ো কিছু বাকি নাই। এখন রাগে তার