পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (চতুর্বিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/২৮৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রবীন্দ্র-রচনাবলী "לף ל. হইতে দেশের শুভবুদ্ধির মুক্ত হইবার চেষ্টা। যুক্তিশাস্ত্রে বলে, পর্বতে বহ্নিমান ধূমাৎ । গুপ্তচরের যুক্তি বলে, পর্বতে ধূমবান বহেঃ । কিন্তু যাই বলুক আর যাই করুক, মাটির তলায় ঐ যে দারুণ সুড়ঙ্গপথ খোলা হইল, যেখানে আলো নাই, শঙ্কা নাই, বিচার নাই, নিষ্কৃতির কোনো বৈধ উপায় নাই, এইটেই কি সুপথ হইল । দেশের ব্যাকুল চেষ্টাকে বিনা বাছনিতে একদমে কবরস্থ করিলে তার প্রেতের উৎপাতকে কি কোনোদিন শান্ত করিতে পারিবে। ক্ষুধার ছটফটানিকে বাহির হইতে কানমলা দিয়া ঠাণ্ড করিয়া চিরতুর্ভিক্ষকে ভদ্র আকার দান করাই যে যথার্থ ভজনীতি এমন কথা তো বলিতে পারিই না, তাহ ষে বিজ্ঞনীতি তাহাও বলা যায় না। এই-রকম চোর-উৎপাতের সময় সমূত্রের ওপার হইতে খবর আসিল আমাদিগকে দান করিবার জন্ত স্বাধীন শাসনের একটা খসড়া তৈরি হইতেছে। মনে ভাবিলাম . কর্তৃপক্ষ বুঝিয়াছেন যে, শুধু দমনের বিভীষিকায় অশান্তি দূর হয় না, দাক্ষিণ্যেরও দরকার। দেশ আমার দেশ, সে তো কেবল এখানে জন্মিয়াছি বলিয়াই নয়, এ দেশের ইতিহাসস্থষ্টি-ব্যাপারে আমার তপস্যার উপরে সমস্ত দেশের দাবি আছে বলিয়াই এ দেশ আমার দেশ, এই গভীর মহত্ববোধ যদি দেশের লোক অনুভব করিবার উৎসাহ পায় তবেই এ দেশে ইংরেজরাজত্বের ইতিহাস গৌরবান্বিত হইবে । কালক্রমে বাহিরে সে ইতিহাসের অবসান ঘটিলেও অন্তরে তাহার মহিমা স্মরণীয় হইয়া থাকিবে । তা ছাড়া নিরতিশয় দুর্বলেরও প্রতিকূলতা নৌকার ক্ষুদ্রতম ছিদ্রের মতো । শান্তির সময় নিরস্তর জল সেচিয়া সেই ফাট নৌকা বাওয়া যায়, কিন্তু তুফানের সময় যখন সকল হাতই ক্লাড়ে হালে পালে আটক থাকে তখন তলার অতিতুচ্ছ ফাটলগুলিই মুশকিল বাধায়। রাগ করিয়া তার উপরে পুলিসের রেগুলেশন বা নন-রেগুলেশন লাঠি ঠুকিলে ফাটল কেবল বাড়িতেই থাকে। ফাকগুলিকে বুজাইবার জন্ত সময়মত সামান্ত খরচ করিলে কালক্রমে অসামান্ত খরচ বঁাচে । এই কথা যে ইংলণ্ডের মনীষী রাষ্ট্রনৈতিকেরা বুঝিতেছেন না তাহা আমি মনে করি না। বুঝিতেছেন বলিয়াই হোমরুলের কথাটা উঠিয়াছে । কিন্তু রিপু অন্ধ ; সে উপস্থিত কালকেই বড়ো করিয়া দেখে, অনাগতকে উপেক্ষা করে। ধর্মের দোহাইকে সে দুর্বলতা এবং শৌখিন ভাবুকত বলিয়া অবজ্ঞা করে । অভাবনীয় প্রত্যাশার আনন্দে উৎফুল্প হইয়া ইংরেজের এই রিপুর কথাটাকে ভারতবর্ষ সামান্ত বলিয়া জ্ঞান করিয়াছিল । যে সমস্ত ইংরেজ এ দেশে রাজসেরেস্তার আমলা বা পণ্যজীবী, তাহারা ভারতবর্ষের অত্যন্ত বেশি নিকটে আছে। এই নিকটের দৃপ্তের মধ্যে তাদেরই প্রতাপ, তাদেরই ধনসঞ্চয় সবচেয়ে সমুচ্চ, আর ভারতবর্ষের