পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (চতুর্বিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৩৩৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ॐ३४ রবীন্দ্র-রচনাবলী কোনোমতে যখন পূরণ করতে চাই তখন মোহকে সহায় করতে ইচ্ছা হয়, তখন অঙ্কমের লোত জ্বালাদিনের প্রদীপের গুজব শুনলেই একেবারে লাফিয়ে ওঠে। এ কথা সকলকেই একবাক্যে স্বীকার করতে হৰে যে, আলাদিনের প্রদীপের মতো এমন জাশ্চর্য সুবিধার জিনিস আর নেই, কেবল ওর একটি মাত্র অসুবিধা এই যে, ও জিনিল কোথাও পাওয়া যায় না। কিন্তু পাওয়া যে বায় না এ কথা খুব জোরের সঙ্গে সে মানুষ কিছুতেই বলতে পারে না যায় লোভ বেশি অথচ যার সামর্থ্য কম। এইজম্ভে তার উদ্যম তখনি পুরোদমে জেগে ওঠে যখন তাকে কেউ আলাদিনের প্রদীপের আশ্বাস দিয়ে থাকে। সেই আশ্বাসকে হরণ করতে গেলে সে এমনি চিৎকার করতে থাকে যেন তার সর্বস্বাস্ত করা হল । সেই বঙ্গবিভাগের উত্তেজনার দিনে একদল যুবক রাষ্ট্রবিপ্লবের দ্বারা দেশে যুগাম্ভর আনবার উদ্যোগ করেছিলেন। আর যাই হোক, এই প্রলয়হুতাশনে তারা নিজেকে আস্থতি দিয়েছিলেন, এইজন্তে তারা কেবল আমাদের দেশে কেন সকল দেশেই সকলেরই নমস্ত। তাদের নিষ্ফলতাও আত্মার দীপ্তিতে সমুজ্জল। তারা পরমত্যাগে পরষদুঃখে আজ একটা কথা স্পষ্ট জেনেছেন যে, রাষ্ট্র যখন তৈরি নেই তখন রাষ্ট্রবিপ্লবের চেষ্টা করা পথ ছেড়ে অপথে চলা— পথের চেয়ে অপথ মাপে ছোটো, কিন্তু সেটাকে অঙ্গুসরণ করতে গেলে লক্ষ্যে পৌছনো যায় না, মাঝের থেকে পা দুটোকে কাটায় কাটায় ছিন্নবিচ্ছিন্ন করা হয়। যে-জিনিসের যা দাম তা পুরো না দিতে পারলে দাম তো যায়ই জিনিসও জোটে না । সেদিনকার সেই দুঃসাহসিক যুবকের ভেবেছিলেন সমস্ত দেশের হয়ে তারা কয়জন আত্মোৎসর্গ দ্বারা রাষ্ট্রবিপ্লব ঘটাৰেন ; তাদের পক্ষে এটা সর্বনাশ, কিন্তু দেশের পক্ষে এটা সস্তা। সমস্ত দেশের অন্তঃকরণ থেকে সমভ দেশের উদ্ধার জেগে ওঠে, তার কোনো একটা অংশ থেকে নয়। রেলযানে ফার্স্ট ক্লাস গাড়ির মূল্য এবং সৌষ্ঠব যেমনি থাক, সে তার নিজের সঙ্গে সংযুক্ত থার্ড ক্লাস গাড়িকে কোনোমতেই এগিয়ে যেতে পারে না। আমার মনে হয় তারা আজ বুঝেছেন, সমগ্র দেশ বলে একটি জিনিস সমস্ত দেশের লোকের স্বাক্ট ; এই স্থটি তার সমস্ত হৃদয়বৃত্তি বুদ্ধিবৃত্তি ইচ্ছাশক্তির প্রকাশে। এ হচ্ছে যোগলন্ধ ধন, অর্থাৎ যে যোগের দ্বারা মানুষের সকল বৃত্তি আপন স্বাক্টর মধ্যে সংহত হয়ে রূপলাভ করে। পোলিটিকাল যোগ বা ইকনমিক যোগ পূর্ণ যোগ নয়, সর্বশক্তির যোগ চাই। অষ্ঠ দেশের ইতিহাস যখন লক্ষ্য করে দেখি তখন পোলিটিকাল ঘোড়াটাকে সকলের আগে দেখি, মনে মনে ঠিক করি ঐ চতুষ্পদটারই টানে সমভ জাত এগিয়ে চলেছে । তখন হিসাব করে দেখি নে, এর পিছনে দেশ ব’লে যে গাড়িটা