পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (চতুর্বিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৩৪৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


wට්‍රොඑෂු রবীন্দ্র-রচনাবলী শক্তিকে সংকীর্ণ করে তাকে বল দেবার চেষ্টা করেছিল, স্পার্টার জয় হয় নি ; এথেন্স, মাহুষের সকল শক্তিকে উন্মুক্ত করে তাকে পূর্ণতা দিতে চেয়েছিল, এথেন্সের জয় হয়েছে ; তার লেই জয়পতাকা আজও মানবসভ্যতার শিখরচূড়ায় উড়ছে। যুরোপে সৈনিকাবাসে কারখানাঘরে মানবশক্তির ক্লীবত্বসাধন করছে না কি— লোভের বশে উদ্দেশুসাধনের খাতিরে মানুষের মন্থন্তত্বকে সংকীর্ণ করে ছেটে দিচ্ছে না কি। আর এইজন্তেই কি যুরোপীয় সমাজে আজ নিরানন্দ ঘনীভূত হয়ে উঠছে না। বড়ো কলের দ্বারাও মানুষকে ছোটো করা যায়, ছোটো কলের দ্বারাও করা যায়। এঞ্জিনের দ্বারাও করা যায়, চরকার দ্বারাও । চরকা যেখানে স্বাভাবিক সেখানে সে কোনো উপদ্ৰব করে না, বরঞ্চ উপকার করে— মানবমনের বৈচিত্র্যবশতই চরকা যেখানে স্বাভাবিক নয় সেখানে চরকায় স্বতা কাটার চেয়ে মন কাটা যায় অনেকখানি । মন জিনিসটা স্থতার চেয়ে কম মূল্যবান নয়। একটি কথা উঠেছে এই যে, ভারতে শতকরা আশিজন লোক চাষ করে এবং তারা বছরে ছয় মাস বেকার থাকে, তাদের স্থত৷ কাটতে উৎসাহিত করবার জন্তে কিছুকাল সকল ভদ্রলোকেরই চরকা ধরা দরকার। প্রথম আবশ্বক হচ্ছে যথোচিত উপায়ে তথ্যাঙ্গুসন্ধান দ্বারা এই কথাটি প্রতিপন্ন করা। অর্থাৎ কী পরিমাণ চাষা কতদিন পরিমাণ বেকার থাকে। যখন চাষ বন্ধ তখন চাষারা কোনো উপায়ে যে পরিমাণ জীবিকা অর্জন করে স্থতাকাটার দ্বারা তার চেয়ে বেশি অর্জন করবে কি না । চাষ ব্যতিরেকে জীবিকার একটিমাত্র উপায়ের দ্বারা সমস্ত কৃষাণকে বদ্ধ করা দেশের কল্যাশের পক্ষে উচিত কি না সে সম্বন্ধেও সন্দেহ আছে। কিন্তু মূল কথা এই যে, কারে মুখের কথায় কোনো অনুমানমাজের উপর নির্ভর করে আমরা সর্বজনীন কোনো পন্থা অবলম্বন করতে পারব না, আমরা বিশ্বাসযোগ্য প্রণালীতে তথ্যাকুসন্ধান দাবি করি। তার পরে উপায়ের যথাযোগ্যতা সম্বন্ধে বিচার করা সম্ভবপর । অামাকে কেউ কেউ বলেছেন, দেশের চিত্তশক্তিকে আমরা তো চিরদিনের জন্তে সংকীর্ণ করতে চাই নে, কেবল অতি অল্পকালের জন্তে । কেনই-বা অল্পকালের জন্তে । যেহেতু এই অল্পকালের মধ্যে এই উপায়ে আমরা স্বরাজ পাব ? তার যুক্তি কোথায়। স্বরাজ তো কেবল নিজের কাপড় নিজে জোগানো নয়। স্বরাজ তো একমাত্র জাম্বাদের বন্ধস্বচ্ছলতার উপর প্রতিষ্ঠিত নয়। তার যথার্থ ভিত্তি মামাদের মনের উপর, সেই মন তার বহুধাশক্তির দ্বারা এবং সেই আত্মশক্তির উপর আস্থা দ্বার, স্বরাজ গৃষ্টি করতে থাকে। এই স্বরাজস্থষ্টি কোনো দেশেই তো শেষ হয় নি— সকল