পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (চতুর্বিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৪৮৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


8ᏄᏜ রবীন্দ্র-রচনাবলী অসময় সাহানা । s७8 १ १खाष्ठं অপঘাত প্রবাসী ১৩৪৭ শ্রাবণ মানসী প্রবাসী ১৩৪৭ শ্রাবণ রবীন্দ্রসদনের পাণ্ডুলিপির সাহায্যে বর্তমান সংস্করণে অনেকগুলি কবিতার রচনাস্থান ও তারিখের নির্দেশ সংযোজিত হইয়াছে। ‘কর্ণধার কবিতাটির প্রথম রচনা ও উহার ক্রমবিবর্তনের পরিচয়-স্বরূপ ‘মংপুতে রবীন্দ্রনাথ’ গ্রন্থের প্রাসঙ্গিক কিয়দংশ নিয়ে উদ্ধৃত হইল— একদিন মুনার রোদ উঠেছে, আকাশে অল্প অল্প শরৎকালের [ ? ] মেঘ,— মংপুর পক্ষে দিনটা ঈষৎ গরম বলা যেতে পারে। এখানকার কুয়াসার বন্ধন মোচন করে যেদিন রোদ উঠত উনি [ রবীন্দ্রনাথ ] খুব খুশি হয়ে উঠতেন। যথারীতি বারান্দার বড় চৌকিটাতে বসে আছেন। আমরা খাবার ঘর থেকে গুন গুন গান শুনতে পাচ্ছি । খাওয়াদাওয়া শেষ ক'রে বারান্দায় এলাম আমরা। “আজ চমৎকার দিনটি হয়েছে। কেবল ক ড়েমি করতে ইচ্ছে করছে, তাই এই চোঁকিতে হেলান দিয়ে বসেই আছি, বসেই আছি।” গান গেয়ে যেতে লাগলেন,– “হে তরুণী তুমি আমার ছুটির কর্ণধার – আজ সমস্ত দিনটা যেন ছুটতে পাওয়া। কাজের দিন নয় এ, তাই বসে বসে গাইছি— হে তরুণী তুমিই আমার ছুটির কর্ণধার, অলস হাওয়ায় দিচ্ছ পাড়ি নিয়ে যাবে কর্মনদীর পার। হে তরুণী—” সে সুর মনে আছে। ইসারায় বলেন– কলমটা দাও । প্যাড আর কলম এগিয়ে দিলুম। গান গেয়ে লিখে চল্লেন— হে তরুণী তুমিই আমার ছুটির কর্ণধার অলস হাওয়ার বাইচে। স্বপনতরী গিয়ে যাবে কর্মনদীর পার। প্যাডটা নিয়ে গুন গুন করে গেয়ে চললেন । বিকেল বেলা যখন ফিরে এলুম, দেখি লেখাটা প্রায় সবই বদল হয়ে গেছে এবং বিচিত্রিত ভাবে আগেকার লেখাটিকে কালির আচ্ছাদনে মণ্ডিত ক’রে আঁকা হয়েছে সুন্দর একটি ছবি, তার ফাকে ফঁাকে নূতন যে লেখাটা পড়া যাচ্ছে— কে অদৃষ্ঠ ছুটির কর্ণধার অলস হাওয়ায় দিচ্ছ পাড়ি কর্মনদীর পার । দিগন্তরের কুঞ্জবনে অশ্রুত কোন গুঞ্জরণে বাতাসেতে জাল বুনে দেয় মদির তলার । নীল নয়নের মৌনখানি সেই সে দুরের আকাশবাণী