পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (চতুর্বিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৫১১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


85b’ রবীন্দ্র-রচনাবলী recreation, all in separate compartments, and disharmony as a summary of all. সার্বভৌম শিক্ষার সমগ্রতার দ্বারাই জার্মানির অধিবাসী মহন্তত্বের সম্পূর্ণতা লাভ করবে, এই চিন্তা সে দেশে আগুন লাগার রূপকের জোরে উপেক্ষিত হয় নি । অথচ সেখানে অন্নাভাব বস্ত্রাভাব আমাদের দেশের চেয়েও প্রবলতর । আগে স্বতো কাটব, কাপড় বুনব, খাব এবং তদ্বারায় স্বরাজ পাব, তার পরে উপযুক্ত অবকাশ নিয়ে মনের দিক থেকে মানুষ হব, এ কথা মানুষের কথাই নয়। প্রাণের যেমন একটা সমগ্রতা আছে, তাইট সাজিয়ে ক্রমে ক্রমে টুকরো টুকরো ক’রে গড় নয়, মনুস্তত্বেরও তেমনি সমগ্রতা আছে। তার দেহ পরবে বস্ত্র, আর তার মন থাকবে উলঙ্গ, এ সয় না— কোনো প্রয়োজনের দোহাই দিয়ে তার পূর্ণতাকে কিছুকাল ধরেও খণ্ডিত করলে সে ক্ষতি হয়তো কোনোকালে আর পূরণ হবে না। যদি বলি যতদিন স্বরাজ না পাব ততদিন দেশে শিল্পকার্যকে প্রশ্রয় দেব না, কেননা শিল্পকার্য অবশুপ্রয়োজনীয় নয়, তা শৌখিন, তা হলে স্বরাজ কবে পাব জানি নে, কিন্তু যে শিল্প শত শত বৎসরের সাধনায় প্রাণলাভ করেছে স্বল্পকালের অনাদরে চিরদিনের জন্তে তা লুপ্ত হতে পারে। দেশে এমন লোকের অভাব নেই র্যারা বলবেন, নাহয় তাই হল । আমি এই বলি, মানুষকে এক দিকে অসম্পূর্ণ করে আর-এক দিকে তাকে স্বাধীনতা দেওয়ার অর্থ হচ্ছে কলসীর এক দিক থেকে ছিদ্র করে আর-এক দিক থেকে তাতে জল ঢালা । মানুষ আপন সম্পূর্ণতা প্রকাশ করবার অবসর পাবে এইজন্যই মানুষের স্বাধীনতা। স্পার্ট আপন পূর্ণ মচুন্যত্বকে পঙ্গু করে বাহুবলের সাধনা করেছিল, তাতে কোনো ফল পায় নি ; এথেন্স, তার কোনো একটা বিশেষ শক্তিকে সংকীর্ণ করতে চায় নি, মনুষ্যত্বের সর্বাঙ্গণতাকে চেয়েছিল, এইজন্তে সকল শক্তির সঙ্গে যোগেই সে বাহুবলকে পেয়েছিল। এর কারণ হচ্ছে, মনুষ্যত্বের প্রাণময় অখণ্ডতাই মানুষের পরম সত্য, কোনো আশু প্রয়োজনের লোভে তাকে খণ্ডিত করলে সমস্তটাকেই ক্লিষ্ট করা হয়। সেই চটি বই থেকে আর-একটি অংশ উদ্ধৃত করে আমার এই লেখা শেষ করি — Everywhere, certainly, there is good will and courage in the face of insuperable difficulty. Those who have not experienced it, cannot realise what it means to be under-fed, under-paid, over-worked, and yet to go on unswervingly with the work of the education of the people. Through the straining of every nerve many thousand marks may be collected for this purpose, while the sum dwindles as it is held in the hand to mere nothingness through the uncontrollable depreciation of the currency,