পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (চতুর্বিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৫৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দৈন্ত সেখা, ব্যাধি সেখা, সেথায় কুঞ্জতা, সেথায় রমণী দস্থ্যভীত— সেথায় উত্তরী ফেলি পরি বর্ম ; সেথায় নির্মম কর্ম ; সেথা ত্যাগ, সেখা দুঃখ, সেথা ভেরি বাজুক ‘মাভৈঃ' ; শৌখিন বাস্তব যেন সেখা নাহি হই । । সেথায় সুন্দর যেন ভৈরবের সাথে চলে হাতে-হাতে । ক্যাণ্ডীয় নাচ সিংহলে সেই দেখেছিলেম ক্যাণ্ডিদলের নাচ ; শিকড়গুলোর শিকল ছিড়ে যেন শালের গাছ পেরিয়ে এল মুক্তিমাতাল খ্যাপা, হুংকার তার ছুটল আকাশ-ব্যাপা। ডালপাল সব ছড় দাড়িয়ে ঘূর্ণি হাওয়ায় কহে— নহে, নহে, নহে— নহে বাধা, নহে বাধন, নহে পিছন-ফেরা নহে আবেগ স্বপ্ন দিয়ে ঘেরা, নহে মৃদু লতার দোলা, নহে পাতার র্কাপন— আগুন হয়ে জলে ওঠা এ যে তপের তাপন । ওদের ডেকে বলেছিল সমুদরের ঢেউ, 'আমার ছন্দ রক্তে আছে এমন আছে কেউ । , ঝঞ্চ ওদের বলেছিল, ‘মঞ্জীর তোর আছে ঝংকারে যার লাগাবে লয় আমার প্রলয়নাচে। ঐ যে পাগল দেহখানা, শূন্তে ওঠে বান্ত, যেন কোথায় ই করেছে রাহু— লুব্ধ তাহার ক্ষুধার থেকে চাদকে করবে ত্রাণ, পূর্ণিমাকে ফিরিয়ে দেবে প্রাণ।