পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/১৫১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সোনার তরী কোনোদিন আনমনে বসিয়া একাকী পদ্মাতীরে, সম্মুখে মেলিয়া মুগ্ধ আঁখি সর্ব অঙ্গে সর্ব মনে অনুভব করি তোমার মৃত্তিকামাঝে কেমনে শিহরি উঠিতেছে তৃণাঙ্কুর ; তোমার অস্তরে কী জীবন-রসধারা অহৰ্নিশি ধরে করিতেছে সঞ্চরণ ; কুসুম-মুকুল কী অন্ধ আনন্দভরে ফুটিয়া আকুল সুন্দর বৃস্তের মুখে ; নব রৌদ্রালোকে তরুলতাতৃণগুল্ম কী গৃঢ় পুলকে কী মূঢ় প্রমোদ-রসে উঠে হরষিয়া— মাতৃস্তনপানপ্রাস্ত পরিতৃপ্ত-হিয়া সুখস্বপ্নহাস্যমুখ শিশুর মতন । তাই আজি কোনো দিন – শরৎ-কিরণ পড়ে যবে পঙ্কশীর্ষ স্বর্ণক্ষেত্র পরে, নারিকেলদলগুলি কাপে বায়ুভরে আলোকে ঝিকিয়া, জাগে মহাব্যাকুলতা, মনে পড়ে বুঝি সেই দিবসের কথা মন যবে ছিল মোর সর্বব্যাপী হয়ে জলে স্থলে, অরণ্যের পল্লবনিলয়ে, আকাশের নীলিমায়। ডাকে যেন মোরে অব্যক্ত আহবান-রবে শতবার করে সমস্ত ভুবন ; সে বিচিত্র সে বৃহৎ খেলাঘর হতে, মিশ্রিত মর্মরবৎ শুনিবারে পাই যেন চিরদিনকার সঙ্গীদের লক্ষবিধ আনন্দ-খেলার পরিচিত রব । সেথায় ফিরায়ে লহ মোরে আরবার ; দূর করো সে বিরহ, যে বিরহ থেকে থেকে জেগে ওঠে মনে হেরি যবে সম্মুখেতে সন্ধ্যার কিরণে ১৩৭