পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/২৮২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


২৬২ রবীন্দ্র-রচনাবলী বিনোদবিহারী । কেন, কী হয়েছে । চন্দ্রকান্ত । কী জানি ভাই, কথন তোদের সাক্ষাতে কথায় কথায় কী কতকগুলো মিছে কথা বলেছিলুম, তাই শুনে ব্রাহ্মণী বাপের বাড়ি এমনি গা-ঢাকা হয়েছেন যে, কিছুতেই তার আর নাগাল পাচ্ছিনে। বিনোদবিহারী। বল কী দাদা। তোমার বাড়িতে তো এ দণ্ডবিধি পূর্বে প্রচলিত ছিল না। চন্দ্রকান্ত । না ভাই, কালক্রমে কতই যে হচ্ছে কিছু বুঝতে পারছিনে। ইদিকে আবার দাসী পাঠিয়ে দু-বেলা খোজ নেওয়া আছে, তা আমি জানতে পাই । আবার শাশুড়ী-ঠাকরুনের নাম করে যথাসময়ে অল্পব্যঞ্জনও আসে । মনে করি রাগ করে খাব না ; কিন্তু ভাই, থিদের সময়ে আমি না খেয়ে থাকতে পারিনে তা যতই রাগ হোক । বিনোদবিহারী । তবে তোমার ভাবন কী । যদি শ্বশুড়বাড়ি থেকে আর সমস্তই পাচ্ছ, না হয় একটি বাকি রইল। চন্দ্রকাস্ত। না বিহু, তোরা ঠিক বুঝতে পারবিনে । তুই সেদিন বলছিলি বিয়ে না-করাটাই তোর মুখস্থ হয়ে গেছে । আমার ঠিক তার উলটো । প্রায় সমস্ত জীবন ধরে ওই স্ত্রীটিকে এমনি বিত্র অভ্যেস করে ফেলেছি যে, হঠাৎ বুকের হাড়-কখানা খসে গেলে যেমন একদম খালি-খালি ঠেকে, ওই স্ত্রীটি আড়াল হলেও তেমনি নেহাত ফণকা বোধ হয়। মাইরি, সন্ধের পর আমার সে ঘরে আর ঢুকতে ইচ্ছে করে না। বিনোদবিহারী । এখন উপায় কী । চন্দ্রকান্ত । মনে করছি আমি উলটে রাগ করব । আমিও ঘর ছেড়ে চলে আসব। তোর এখানেই থাকব । আমার বন্ধুদের মধ্যে তোকেই সে সব চেয়ে বেশি ভয় করে । তার বিশ্বাস, তুই আমার মাথাটি খেয়েছিস ; আমি তাকে বলি, আমার এ বুনো মাথায় বিকুর দস্তস্ফুট করবার জো নেই, কিন্তু সে বোঝে না । সে যদি খবর পায় আমি চব্বিশ ঘণ্টা তোর সংসর্গে কাটিয়েছি, তা হলে পতিত-উদ্ধারের জন্যে পতিতপাবনী অমনি তৎক্ষণাৎ ছুটে চলে আসবে। বিনোদবিহারী। তা বেশ কথা । তুমি এখানেই থাকে, যতক্ষণ তোমার সঙ্গ পাওয়া যায় ততক্ষণই লাভ । কিন্তু আমাকে যে আবার শ্বশুরবাড়ি যেতে হচ্ছে । চজকান্ত । কার শ্বশুরবাড়ি । *. বিনোদবিহারী। অামার নিজের, আবার কার । চন্দ্রকান্ত । ( সানন্দে বিনোদের পৃষ্ঠে চপেটাঘাত করিয়া ) সত্যি বলছিস বিষ্ণু ?