পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/২৯৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


२१४ রবীন্দ্র-রচনাবলী ক্ষান্তমণি। বিচু তোমার দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী কিনা , বিকুর সঙ্গে কথা হয়েছে ! এখন ঢের হয়েছে চলো । চন্দ্রকান্ত । ( জিব কাটিয়া মাথা নাড়িয়া ) সে কি হয় ! বন্ধু মানুষকে কথা দিয়েছি এখন কি সে ভাঙতে পারি। ক্ষাস্তমণি । আমার ঘাট হয়েছে, আমাকে মাপ করো তুমি । আমি আর কখনো বাপের বাড়ি গিয়ে থাকব না। তা তোমার তো অযত্ন হয়নি— আমি তো সেখান থেকে সমস্ত রেধে তোমাকে পাঠিয়ে দিয়েছি । চন্দ্রকান্ত । বড়োবউ, আমি কি তোমার রান্নার জন্যে তোমাকে বিয়ে করেছিলুম। যে-বৎসর তোমার সঙ্গে অভাগার শুভবিবাহ হয় সে-বৎসর কলকাতা শহরে কি রাধুনি বামুনের মড়ক হয়েছিল । ক্ষান্তমণি । আমি বলছি, আমার একশ-বার ঘাট হয়েছে, আমাকে মাপ করো,— আমি আর-কখনো এমন কাজ করব না। এখন তুমি ঘরে চলে। চন্দ্রকান্ত । তবে একটু রোসো । নিবারণবাবু আমার জলখাবারের ব্যবস্থা করতে গেছেন—উপস্থিত ত্যাগ করে যাওয়াটা শাস্ত্রবিরুদ্ধ । ক্ষান্তমণি। আমি সেখানে সব ঠিক করে রেখেছি, তুমি এখনি চলে । চন্দ্রকাস্ত । বল কী, নিবারণবাবু— ক্ষান্তমণি । সে আমি নিবারণবাবুকে বলে পাঠাব এখন, তুমি চলে । চন্দ্রকান্ত । তবে চলে । সকল গোরুগুলিই তো একে একে গোষ্ঠে গেল । আমিও যাই । বন্ধুগণ । ( নেপথ্য হইতে ) চন্দরদ । ক্ষান্তমণি । ওই রে, আবার ওরা আসছে ! ওদের হাতে পড়লে আর তোমার রক্ষে নেই । চন্দ্রকান্ত । ওদের হাতে তুমি আমি দু-জনেই পড়ার চেয়ে এক জন পড়া ভালো । শাস্ত্রে লিখছে “সর্বনাশে সমুংপন্নে অধং ত্যজতি পণ্ডিতঃ” ; অতএব এ-স্থলে আমার অর্ধাঙ্গের সরাই ভালো । ক্ষান্তমণি । তোমার ঐ বন্ধগুলোর জালায় আমি কি মাথামোড় খুঁড়ে মরব। [ প্রস্থান বিনোদবিহারী, নিমাই ও নলিনাক্ষের প্রবেশ চন্দ্রকান্ত । কেমন মনে হচ্ছে বিন্ধু ? বিনোদবিহারী । সে আর কী বলব দাদা ।