পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৩১৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


২৯২ রবীন্দ্র-রচনাবলী বিহারী গভীরভাবে মহেঞ্জের মুখের দিকে চাহিল। কহিল, “মহিনদা, সত্য বলিতেছ? এখনো ঠিক করিয়া বলে । তুমি বিবাহ করিলে কাকী ঢের বেশি খুশি হইবেন— তাহা হইলে তিনি মেয়েটিকে সর্বদাই কাছে রাখিতে পারিবেন।” মহেন্দ্ৰ কহিল, “তুমি পাগল হইয়াছ ? সে হইলে অনেক কাল আগে হইয়া যাইত।” বিহারী অধিক আপত্তি না করিয়া চলিয়া গেল, মহেন্দ্রও সোজা পথ ছাড়িয়া দীর্ঘ পথ ধরিয়া বহুবিলম্বে ধীরে ধীরে বাড়ি গিয়া পৌছিল । মা তখন লুচিভাজা-ব্যাপারে ব্যস্ত ছিলেন, কাকী তখনো তাহার বোনঝির নিকট হইতে ফেরেন নাই । মহেন্দ্র এক নির্জন ছাদের উপর গিয়া মাদুর পাতিয়া শুইল । কলিকাতার হর্ম্যশিখরপুঞ্জের উপর শুক্লসপ্তমীর অর্ধচন্দ্র নিঃশব্দে আপন অপরূপ মায়ামন্ত্র বিকীর্ণ করিতেছিল । মা যখন খাবার খবর দিলেন, মহেন্দ্র অলসম্বরে কহিল, “বেশ আছি, এখন আর উঠিতে পারি না।” মা কহিলেন, “এইখানেই আনিয়া দিই না ?” মহেন্দ্র কহিল, "আজ আর খাইব না, আমি খাইয়া আসিয়াছি।” মা জিজ্ঞাসা করিলেন, “কোথায় খাইতে গিয়াছিলি।” মহেন্দ্ৰ কহিল, “সে অনেক কথা, পরে বলিব ।” মহেন্দ্রের এই অভূতপূর্ব ব্যবহারে অভিমানিনী মাতা কোনো উত্তর না করিয়া চলিয়া যাইতে উদ্যত হইলেন। তখন মুহূর্তের মধ্যে আত্মসংবরণ করিয়া অভুতপ্ত মহেন্দ্ৰ কহিল, “মা, আমার খাবার এইখানেই আনে।” মা কহিলেন, “ক্ষুধা না থাকে তো দরকার কী।” এই লইয়া ছেলেতে মায়েতে কিয়ৎক্ষণ মান-অভিমানের পর মহেন্দ্রকে পুনশ্চ আহারে বসিতে হইল । VL রাত্রে মহেন্দ্রের ভালো নিদ্রা হইল না। প্রত্যুষেই সে বিহারীর বাসায় আসিয়া উপস্থিত । কহিল, “ভাই, ভাবিয়া দেখিলাম, কাকীমার মনোগত ইচ্ছা আমিই তাহার বোনবিকে বিবাহ করি।” •. বিহারী কহিল, “সেজন্য তো হঠাৎ নূতন করিয়া ভাবিবার কোনো দরকার ছিল না । তিনি তো ইচ্ছা নানাপ্রকারেই ব্যক্ত করিয়াছেন।”