পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৩২৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চোখের বালি ●e বিনোদিনী এই অস্থানে পতিত কলিকাতার ছেলেটির নির্বাসনদগুও যথাসাধ্য লঘু করিবার জন্য অন্তঃপুরের অন্তরাল হইতে চেষ্টা করিত । বিহারী প্রত্যেক বার পাড়া পর্যটন করিয়া আসিয়া দেখিত, কে তাহার ঘরটিকে প্রত্যেক বার পরিপাটি পরিচ্ছন্ন করিয়া রাথিয়াছে, একটি র্কাসার গ্লাসে দু-চারটি ফুল এবং পাতার তোড়া সাজাইয়াছে এবং তাহার গদির একধারে বঙ্কিম ও দীনবন্ধুর গ্রন্থাবলী গুছাইয়া রাখিয়াছে। গ্রন্থের ভিতরের মলাটে মেয়েলি অথচ পাকা অক্ষরে বিনোদিনীর নাম লেখা । পল্লীগ্রামের প্রচলিত আতিথ্যের সহিত ইহার একটু প্রভেদ ছিল । বিহারী তাহারই উল্লেখ করিয়া প্রশংসাবাদ করিলে রাজলক্ষ্মী কহিতেন, “এই মেয়েকে কি না তোরা অগ্রাহ করিলি ।” বিহারী হাঁসিয়া কহিত, “ভালো করি নাই মা, ঠকিয়াছি । কিন্তু বিবাহ না করিয়া ঠক ভালো— বিবাহ করিয়া ঠকিলেই মুশকিল ।” রাজলক্ষ্মী কেবলি মনে করিতে লাগিলেন, “আহ, এই মেয়েই তো আমার বধু ट्झे८ङ •ांद्रिङ । ८कन ट्झेल नां ।” রাজলক্ষ্মী কলিকাতায় ফিরিবার প্রসঙ্গমাত্র উত্থাপন করিলে বিনোদিনীর চোখ ছলছল করিয়া উঠিত । সে বলিত, “পিসিম, তুমি দু-দিনের জন্তে কেন এলে । যখন তোমাকে জানিতাম না, দিন তো এক রকম করিয়া কাটিত । এখন তোমাকে ছাড়িয়া কেমন করিয়া থাকিব ।” রাজলক্ষ্মী মনের আবেগে বলিয়া ফেলিতেন, “মা, তুই আমার ঘরের বউ হলিনে কেন, তা হইলে তোকে বুকের মধ্যে করিয়া রাখিতাম।” সে-কথা শুনিয়া বিনোদিনী কোনো ছুতায় লজ্জায় সেখান হইতে উঠিয়া যাইত। রাজলক্ষ্মী কলিকাতা হইতে একটা কাতর অনুনয়পত্রের অপেক্ষায় ছিলেন । র্তাহার মহিন জন্মাবধি কখনো এতদিন মাকে ছাড়িয়া থাকে নাই— নিশ্চয় এতদিনে মার বিচ্ছেদ তাহাকে অধীর করিয়া তুলিতেছে। রাজলক্ষ্মী তাহার ছেলের অভিমান এবং আবদারের সেই চিঠিখানির জন্য তৃষিত হইয়া ছিলেন। বিহারী মহেঞ্জের চিঠি পাইল। মহেন্দ্র লিথিয়াছে, “মা বোধ হয় অনেক দিন পরে জন্মভূমিতে গিয়া বেশ মুখে আছেন।” রাজলক্ষ্মী ভাবিলেন, “আহা, মহেন্দ্র অভিমান করিয়া লিখিয়াছে। স্বখে আছেন । হতভাগিনী মা নাকি মহেন্দ্রকে ছাড়িয়া কোথাও স্বখে থাকিতে পারে।” “ও বিহারী, তার পরে মহিন কী লিথিয়াছে, পড়িয়া শোনা না বাছা।”