পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৩৫০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


७२४ রবীক্স-রচনাবলী চেষ্টায় ছিল। এই খেপামির বস্তাকে তাহারা প্রাত্যহিক সংসারের সহজ স্রোতে কেমন করিয়া পরিণত করিবে । নেশার পরেই মাঝখানে যে অবসাদ আসে, সেটা দূর করিতে মানুষ আবার যে-নেশা চায় সে-নেশা আশা কোথা হইতে জোগাইবে । এমন সময় বিনোদিনী নবীন রঙিন পাত্র ভরিয়া আশার হাতে আনিয়া দিল । আশা স্বামীকে প্রফুল্প দেখিয়া আরাম পাইল । এখন আর তাহার নিজের চেষ্টা রহিল না । মহেন্দ্র-বিনোদিনী যখন উপহাসপরিহাস করিত, তখন সে কেবল প্রাণ খুলিয়া হাসিতে যোগ দিত। তাসখেলায় মহেন্দ্র যখন অাশাকে অন্যায় ফাকি দিত তখন সে বিনোদিনীকে বিচারক মানিয়া সকরুণ অভিযোগের অবতারণা করিত । মহেন্দ্র তাহাকে ঠাট্টা করিলে বা কোনো অসংগত কথা বলিলে সে প্রত্যাশা করিত, বিনোদিনী তাহার হইয়া উপযুক্ত জবাব দিয়া দিবে। এইরূপে তিনজনের সভা জমিয়া উঠিল । কিন্তু তাই বলিয়া বিনোদিনীর কাজে শৈথিল্য ছিল না। রাধাবাড়া, ঘরকন্না দেখা, রাজলক্ষ্মীর সেবা করা, সমস্ত সে নিঃশেষপূর্বক সমাধা করিয়া তবে আমোদে যোগ দিত। মহেন্দ্র অস্থির হইয়া বলিত, "চাকরদাসীগুলাকে না কাজ করিতে দিয়৷ তুমি মাটি করিবে দেখিতেছি।” বিনোদিনী বলিত, “নিজে কাজ না করিয়া মাটি হওয়ার চেয়ে সে ভালো। যাও, তুমি কলেজে যাও।” মহেন্দ্র । আজ বাদলার দিনটাতে— বিনোদিনী । না সে হইবে না— তোমার গাড়ি তৈরি হইয়া আছে— কালেজে যাইতে হইবে । মহেন্দ্র । আমি তো গাড়ি বারণ করিয়া দিয়াছিলাম । বিনোদিনী । আমি বলিয়া দিয়াছি – বলিয়া মহেঞ্জের কালেজে যাইবার কাপড় আনিয়া সম্মুখে উপস্থিত করিল। মহেন্দ্র । তোমার রাজপুতের ঘরে জন্মানো উচিত ছিল, যুদ্ধকালে আত্মীয়কে বর্ষ পরাইয়া দিতে । আমোদের প্রলোভনে ছুটি লওয়া, পড়া ফাকি দেওয়া, বিনোদিনী কোনোমতেই প্রশ্রয় দিত না । তাহার কঠিন শাসনে দিনে দুপুরে অনিয়ত আমোদ একেবারে উঠিয়া গেল, এবং এইরূপে সায়াহ্নের অবকাশ মহেন্দ্রের কাছে অত্যস্ত রমণীয় লোভনীয় হইয়া উঠিল । তাহার দিনটা নিজের অবসানের জন্য যেন প্রতীক্ষা করিয়া থাকিত । த পূর্বে মাঝে মাঝে ঠিক সময়মতো আহার প্রস্তুত হইত না এবং সেই ছুতা করি