পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৩৫১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চোখের বালি 鸭 లిసిసి মহেন্দ্র আনন্দে কালেজ কামাই করিত। এখন বিনোদিনী স্বয়ং বন্দোবস্ত কবিয়া মহেক্সের কালেজের খাওয়া. সকাল-সকাল ঠিক করিয়া দেয় এবং খাওয়া হইলেই মহেন্দ্র খবর পায়— গাড়ি তৈয়ার। পূর্বে কাপড়গুলি প্রতিদিন এমন ভাজ-করা পরিপাটি অবস্থায় পাওয়া দূরে থাক, ধোপার বাড়ি গেছে কি আলমারির কোনোএকটা অনিৰ্দেশ্য স্থানে অগোচরে পড়িয়া আছে, তাহা দীর্ঘকাল সন্ধান ব্যতীত জানা যাইত না । \ প্রথম-প্রথম বিনোদিনী এই সকল বিশৃঙ্খলা লইয়া মহেন্দ্রের সম্মুখে আশাকে সহাস্ত ভৎসনা করিত— মহেন্দ্রও আশার নিরুপায় নৈপুণ্যহীনতায় সস্নেহে হাসিত । অবশেষে সখিবাৎসল্যবশে আশার হাত হইতে তাহার কর্তব্যভার বিনোদিনী নিজের হাতে কাড়িয়া লইল । ঘরের শ্ৰী ফিরিয়া গেল । চাপকানের বোতাম ছিড়িয়া গেছে, আশা আশু তাহার কোনো উপায় করিতে পারিতেছে না— বিনোদিনী দ্রুত আসিয়া হতবুদ্ধি আশার হাত হইতে চাপকান কাড়িয়া লইয়া চটপট সেলাই করিয়া দেয় । একদিন মহেক্সের প্রস্তুত অল্পে বিড়ালে মুখ দিল— আশা ভাবিয়া অস্থির ; বিনোদিনী তখনি রান্নাঘরে গিয়া কোথা হইতে কী সংগ্ৰহ করিয়া গুছাইয়া কাজ চালাইয়া দিল, আশা আশ্চর্ষ হইয়া গেল । মহেন্দ্র এইরূপে আহারে ও আচ্ছাদনে, কর্মে ও বিশ্রামে, সর্বত্রই নানা আকারে বিনোদিনীর সেবাহন্ত অনুভব করিতে লাগিল । বিনোদিনীর রচিত পশমের জুতা তাহার পায়ে এবং বিনোদিনীর বোনা পশমের গলাবন্ধ তাহার কণ্ঠদেশে একটা যেন কোমল মানসিক সংস্পর্শের মতো বেষ্টন করিল । আশা আজকাল সখিহস্তের প্রসাধনে পরিপাটি-পরিচ্ছন্ন হইয়া সুন্দরবেশে স্বগন্ধ মাখিয়া মহেন্দ্রের নিকট উপস্থিত হয়, তাহার মধ্যে যেন কতকটা আশার নিজের, কতকটা আর-একজনের— তাহার সাজসজ্জা-সৌন্দর্ষে আনন্দে সে যেন গঙ্গাযমুনার মতো তাহার সর্থীর সঙ্গে মিলিয়া গেছে । d বিহারীর আজকাল পূর্বের মতো আদর নাই— তাহার ডাক পড়ে না। বিহারী মহেন্দ্রকে লিথিয়া পাঠাইয়াছিল, কাল রবিবার আছে, দুপুরবেলা আসিয়া সে মহেন্দ্রের মার রান্না খাইবে । মহেন্দ্ৰ দেখিল রবিবারটা নিতান্ত মাটি হয়, তাড়াতাড়ি লিথিয়া পাঠাইল, রবিবারে বিশেষ কাজে তাহাকে বাহিরে যাইতে হইবে । তৰু বিহারী আহারাস্তে একবার মহেন্দ্রের বাড়ির খোজ লইতে আসিল । বেহারার কাছে শুনিল, মহেক্স বাড়ি হইতে বাহিরে যায় নাই । “মহিনদাশ বলিয়া সিড়ি হইতে স্থাকিয়া বিহারী মহেঞ্জের ঘরে গেল। মহেন্দ্র অপ্রস্তুত হইয়া কহিল,