পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৩৭৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


৩৫১ - ब्रवैौठ-ब्रध्नावलौ বিহারী কহিল, “এর আগেও তো নাইট-ডিউটি পড়িয়াছে, কিন্তু তোমাকে তো বাড়ি ছাড়িতে দেখি নাই ।” মহেন্দ্ৰ হাসিয়া কহিল, “মনে কোনো সন্দেহ জন্মিয়াছে না কি ৷” বিহারী কহিল, "না, ঠাট নয়, এখনি বাড়ি চলো।” মহেন্দ্র বাড়ি ফিরিবার জন্য উদ্যত হইয়াই ছিল ; বিহারীর অনুরোধ শুনিয়া সে হঠাৎ নিজেকে ভুলাইল, যেন বাড়ি যাইবার জন্য তাহার কিছুমাত্র আগ্রহ নাই । কহিল, “সে কি হয়, বিহারী । তাহলে আমার বৎসরটাই নষ্ট হইবে ।” বিহারী কহিল, “দেখো মহিনদা, তোমাকে আমি এতটুকু বয়স হইতে দেখিতেছি, আমাকে ভূলাইবার চেষ্টা করিয়ো না । তুমি অন্যায় করিতেছ।” মহেন্দ্র । কার পরে অন্যায় করিতেছি, জজসাহেব । বিহারী রাগ করিয়া বলিল, “তুমি যে চিরকাল হৃদয়ের বড়াই করিয়া আসিয়াছ, তোমার হৃদয় গেল কোথায় মহিনদা ।” মহেন্দ্র । সম্প্রতি কলেজের হাসপাতালে । বিহারী । থামো মহিনদা, থামো । তুমি এখানে আমার সঙ্গে হাসিয়া ঠাট। করিয়া কথা কহিতেছ, সেখানে আশা তোমার বাহিরের ঘরে, অন্দরের ঘরে কাদিয়া কাদিয়া বেড়াইতেছে । আশার কান্নার কথা শুনিয়া হঠাৎ মহেন্দ্রের মন একটা প্রতিঘাত পাইল । জগতে আর যে কাহারে স্থখদুঃখ আছে, সে-কথা তাহার নূতন নেশার কাছে স্থান পায় নাই । হঠাৎ চমক লাগিল, জিজ্ঞাসা করিল, “আশা কঁাদিতেছে কী জন্য ।” বিহারী বিরক্ত হইয়া কহিল, “সে-কথা তুমি জান না, আমি জানি ?” মহেন্দ্র । তোমার মহিনদা সর্বজ্ঞ নয় বলিয়া যদি রাগ করিতেই হয় তো মহিনদার স্বষ্টিকর্তার উপর রাগ করো। g তখন বিহারী যাহা দেখিয়াছিল, তাহা আগাগোড়া বলিল । বলিতে বলিতে বিনোদিনীর বক্ষোলগ্ন আশার সেই অশ্রুসিক্ত মুখখানি মনে পড়িয়া বিহারীর প্রায় কণ্ঠরোধ হইয়া আসিল । 督 বিহারীর এই প্রবল আবেগ দেখিয়া মহেন্দ্র আশ্চর্য হইয়া গেল । মহেন্দ্র জানিত বিহারীর হৃদয়ের বালাই নাই— এ উপসর্গ কবে জুটল। যেদিন কুমারী আশাকে দেখিতে গিয়াছিল, সেই দিন হইতে নাকি । বেচারা বিহারী । মহেন্দ্র মনে মনে তাহাকে বেচারা বলিল বটে, কিন্তু দুঃখবোধ না করিয়া বরঞ্চ একটু আমোদ পাইল । আশার মনটি একান্তভাবে ষে কোন দিকে, তাহা মহেক্স নিশ্চয় জানিত । “আন্ত