পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৩৭৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


૭48 द्ररौौठ्-ब्रछनसंवत्रौ দৃঢ় করিয়াছিল- ভাবিয়াছিল, “বিনোদিনী যদি কাছে আসিবার চেষ্টা করে, তবু আমি দূরে থাকিব ।" আজ সে মনে মনে কহিল, "না, এ তে ঠিক হইতেছে না। যেন আমাদের মধ্যে সত্যই কী একটা বিকার ঘটিয়াছে। বিনোদিনীর সঙ্গে সহজ স্বাভাবিক ভাবে কথাবার্তা আমোদপ্রমোদ করিয়া এই সংশয়াচ্ছন্ন গুমটের ভাবটা দূর করিয়া দেওয়া উচিত।” আশাকে মহেন্দ্ৰ কহিল, “দেখিতেছি, আমিই তোমার সর্থীর চোখের বালি হইলাম। আজকাল তাহার আর দেখাই পাওয়া যায় না।” আশা উদাসীন ভাবে উত্তর করিল, “কে জানে, তাহার কী হইয়াছে।” : এদিকে রাজলক্ষ্মী আসিয়া কাদো-কাদো হইয়া কহিলেন, “বিপিনের বউকে আর তো ধরিয়া রাখা যায় না ।” মহেন্দ্র চকিত ভাব সামলাইয়া লইয়া কহিল, "কেন, মা ।” রাজলক্ষ্মী কহিলেন, “কী জানি বাছা, সে তো এবার বাড়ি যাইবার জন্য নিতান্তই ধরিয়া পড়িয়াছে। তুই তো কাহাকেও খাতির করিতে জানিস না। ভদ্রলোকের মেয়ে পরের বাড়িতে আছে, উহাকে আপনার লোকের মতো আদর-যত্ন না করিলে থাকিবে কেন ।” বিনোদিনী শোবার ঘরে বসিয়া বিছানার চাদর সেলাই করিতেছিল । মহেন্দ্র প্রবেশ করিয়া ডাকিল, "বালি ।” বিনোদিনী সংযত হইয়া বসিল । কছিল, “কী, মহেন্দ্রবাবু।” মহেন্দ্ৰ কহিল, "কী সর্বনাশ । মহেন্দ্র আবার বাৰু হইলেন কবে ।” বিনোদিনী আবার চাদর-সেলাইয়ের দিকে নতচক্ষু নিবদ্ধ রাখিয়া কহিল, "তবে কী বলিয়া ভাকিব ।” মহেন্দ্র কহিল, “তোমার সর্থীকে যা বল— চোখের বালি।” বিনোদিনী অন্যদিনের মতো ঠাট্টা করিয়া তাহার কোনো উত্তর দিল না— সেলাই করিয়া যাইতে লাগিল । মহেন্দ্র কছিল, "ওটা বুঝি সত্যকার সম্বন্ধ হইল, তাই ওটা আর পাতানে চলিতেছে না !” বিনোদিনী একটু থামিয়া দাত দিয়া সেলাইয়ের প্রাস্ত হইতে খানিকটা বাড়তি স্বতা কাটিয়া ফেলিয়া কহিল, “কী জানি, সে আপনি জানেন ।” ৰলিয়াই তাহার সর্বপ্রকার উত্তর চাপা দিয়া গম্ভীরমুখে কহিল, "কালেজ হইতে श्ठां९ ८कव्रां ट्हेल ८५ ।* মহেন্দ্ৰ কহিল, "কেবল মড়া কাটিয়া আর কত দিন চলিবে ।”