পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৪০২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


d রবীন্দ্র-রচনাবলী ه به রক্ত তোলপাড় করিতে লাগিল। নিস্তন্ধ সন্ধ্যা, নির্জন ঘর, নববসন্তের বাতাস দিতেছে, বিনোদিনীর মন যেন ধরা দিল-দিল— উন্মাদ মহেন্দ্র আপনাকে আর ধরিয়া রাখিতে পারিবে না, এমনি বোধ হইল। তাড়াতাড়ি আলো নিবাইয়া ঘরের প্রবেশদ্বার বন্ধ করিল, তাহার উপরে শার্শি অঁাটিয়া দিল, এবং সময় না হইতেই বিছানার মধ্যে গিয়া শুইয়া পড়িল । এও তো সে পুরাতন বিছানা নহে। চার-পাচখানা তোশকে শয্যাতল পূর্বের চেয়ে অনেক নরম । আবার একটি গন্ধ— সে অগুরুর কি খসখসের, কি কিসের ঠিক বুঝা গেল না। মহেন্দ্র অনেকবার এপাশ-ওপাশ করিতে লাগিল— কোথাও যেন পুরাতনের কোনো একটা নিদর্শন খুজিয়া পাইয়া তাহ আঁকড়াইয়া ধরিবার ८कडे । किरू किछूझे झां८ऊ cठेकिल नां । রাত্রি নটার সময় রুদ্ধ স্বারে ঘা পড়িল । বিনোদিনী বাহির হইতে কহিল, “ঠাকুরপো, তোমার খাবার আসিয়াছে, দুয়ার খোলো ।” তখনই দ্বার খুলিবার জন্য মহেন্দ্র ধড়ফড় করিয়া উঠিয়া শার্শির অর্গলে হাত লাগাইল । কিন্তু খুলিল না— মেঝের উপর উপুড় হইয়া লুটাইয়া কহিল, “না না, আমার ক্ষুধা নাই, আমি খাইব না।” * বাহির হইতে উদবিগ্ন কণ্ঠের প্রশ্ন শোনা গেল, “অন্থখ করেনি তো ? জল আনিয়া দিব ? কিছু চাই কি ৷” মহেন্দ্ৰ কহিল, “আমার কিছুই চাই না— কোনো প্রয়োজন নাই ।” বিনোদিনী কহিল, “মাথা খাও, আমার কাছে ভাড়াইয়ো না । আচ্ছা, অসুখ না থাকে তো একবার দরজা থোলো ৷” মহেন্দ্ৰ সবেগে বলিয়া উঠিল, “না খুলিব না, কিছুতেই না। তুমি যাও।” বলিয়া মহেন্দ্র তাড়াতাড়ি উঠিয়া পুনর্বার বিছানার মধ্যে গিয়া শুইয়া পড়িল এবং অন্তৰ্হিতা আশার স্মৃতিকে শূন্ত শয্যা ও চঞ্চল হৃদয়ের মধ্যে অন্ধকারে খুজিয়া বেড়াইতে লাগিল । ঘুম যখন কিছুতেই আসিতে চায় না, তখন মহেন্দ্র বাতি জালাইয়া দোয়াত-কলম লইয়া আশাকে চিঠি লিখিতে বসিল । লিখিল, “আশা, আর অধিক দিন আমাকে এক ফেলিয়া রাখিয়ে না। আমার জীবনের লক্ষ্মী তুমি– তুমি না থাকিলেই আমার সমস্ত প্রবৃত্তি শিকল ছিড়িয়া আমাকে কোন দিকে টানিয়া লইতে চায়, বুঝিতে পারি না। পথ দেখিয়া চলিব, তাহার আলো কোথায়— সে অালো তোমার বিশ্বাসপূর্ণ তুটি চোখের প্রেমস্নিগ্ধ দৃষ্টিপাতে। তুমি শীঘ্র এসো, আমার শুভ, আমার ধ্রুব, আমার