পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৪৪০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


8めb* রবীন্দ্র-রচনাবলী কালেজের বাঙালি ছাত্রদের নিকট তাহাদের দুই জনের বন্ধুত্ব বিখ্যাত ছিল । তাহারা ঠাটা করিয়া ইহাদের দু-জনকে শু্যামদেশীয় জোড়া-যমজ বলিয়া ডাকিত। গত বৎসর মহেন্দ্র পরীক্ষায় ফেল করাতে দুই বন্ধু এক শ্রেণীতে আসিয়া মিলিল। এমন সময়ে হঠাৎ জোড় কেন যে ভাঙিল, তাহা ছাত্রেরা বুঝিতে পারিল না। রোজ যেখানে মহেন্দ্রের সঙ্গে দেখা হইবেই, অথচ তেমন করিয়া দেখা হইবে না, সেখানে বিহারী কিছুতেই যাইতে পারিল না। সকলেই জানিত, বিহারী ভালোরকম পাস করিয়া নিশ্চয় সম্মান ও পুরস্কার পাইবে, কিন্তু তাহার আর পরীক্ষা দেওয়া হইল না। তাহাদের বাড়ির পার্থে এক কুটিরে রাজেন্দ্র চক্রবর্তী বলিয়া এক গরিব ব্রাহ্মণ বাস করিত, ছাপাখানায় বারো টাকা বেতনে কম্পোজিটারি করিয়া সে জীবিকা চালাইত। বিহারী তাহাকে বলিল, “তোমার ছেলেকে আমার কাছে রাখো, আমি উহাকে নিজে লেখাপড়া শিখাইব ।” ব্রাহ্মণ বাচিয়া গেল। খুশি হইয়া তাহার আট বছরের ছেলে বসস্তকে বিহারীর হাতে সমর্পণ করিল। বিহারী তাহাকে নিজের প্রণালীমতে শিক্ষা দিতে লাগিল। বলিল, “দশ বৎসর বয়সের পূর্বে আমি ইহাকে বই পড়াইব না, সব মুখে মুখে শিখাইব ।” তাহাকে লইয়া খেলা করিয়া, তাহাকে লইয়া গড়ের মাঠে, মিউজিয়ামে, আলিপুর-পশুশালায় শিবপুরের বাগানে ঘুরিয়া বিহারী দিন কাটাইতে লাগিল। তাহাকে মুখে মুখে ইংরাজি শেখানো, ইতিহাস গল্প করিয়া শোনানো, নানাপ্রকারে বালকের চিত্তবৃত্তি পরীক্ষা ও তাহার পরিণতিসাধন, বিহারীর সমস্ত দিনের কাজ এই ছিল—সে নিজেকে মুহূর্তমাত্র অবসর দিত না । সেদিন সন্ধ্যাবেলায় বাহির হইবার জো ছিল না । দুপুরবেলায় বৃষ্টি থামিয়া আবার বিকাল হইতে বর্ষণ আরম্ভ হইয়াছে । বিহারী তাহার দোতলার বড়ো ঘরে আলো জালিয়া বসিয়া বসস্তকে লইয়া নিজের নূতন প্রণালীর খেলা করিতেছিল। "বসন্ত, এ-ঘরে ক-টা কড়ি আছে, চট্‌ করিয়া বলে । না, গুনিতে পাইবে না।” বসন্ত । কুড়িটা। বিহারী। হার হইল-আঠারোটা । ফস করিয়া খড়খড়ি খুলিয়া জিজ্ঞাসা করিল, “এ খড়খড়িতে কটা পাল্লা আছে ?” বলিয়া খড়খড়ি বন্ধ করিয়া দিল । বসন্তু বলিল, “ছয়টা ।” “জিত ।”—‘এই ৰেঞ্চিটা লম্বায় কত হইবে। এই বইটার কত ওজন ” এমনি