পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৪৫৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চোখের বালি 8\Lළු ছাড়িয়া কেবল বাঞ্ছিতকে আকর্ষণ করিতে থাকাতে প্রতিমুহূর্তে ক্ৰমে ক্রমে ধীরে ধীরে ८न निकछैदउँौं रुझे८ङ८छ् । বিহারীর ধ্যানে যখন সন্ধ্যার দীপশূন্ত অন্ধকার ঘর নিবিড়ভাবে পরিপূর্ণ হইয়া উঠিয়াছে— যখন সমাজ-সংসার, গ্রাম-পল্লী, সমস্ত বিশ্বভুবন প্রলয়ে বিলীন হইয়া গিয়াছে— তখন বিনোদিনী হঠাৎ স্বারে আঘাত শুনিয়া ভূমিতল হইতে দ্রুতবেগে দাড়াইয়া উঠিল, অসংশয় বিশ্বাসে ছুটিয়া দ্বার খুলিয়া কহিল, “প্ৰভু, আসিয়াছ ?” তাহার দৃঢ় প্রত্যয় হইল, এই মুহূর্তে জগতের আর-কেহই তাহার স্বারে আসিতে পারে না । মহেন্দ্র কহিল, "আসিয়াছি, বিনোদ ।” বিনোদিনী অপরিসীম বিরাগ ও প্রচও ধিক্কারের সহিত বলিয়। উঠিল, “যাও, যাও, যাও এখান হইতে । এখনই যাও।” মহেন্দ্র অকস্মাৎ স্তম্ভিত হইয়া গেল । “হালা বিন্দি, তোর দিদিশাশুড়ী যদি কাল”— এই কথা বলিতে বলিতে কোনো প্রৌঢ় প্রতিবেশিনী, বিনোদিনীর দ্বারের কাছে আসিয়া "ও মা” বলিয়া মস্ত ঘোমটা টানিয়া সবেগে পলায়ন করিল । سNOb পাড়ায় ভারি একটা গোলমাল পড়িয়া গেল। পল্পীবৃদ্ধের চণ্ডীমণ্ডপে বসিয়া কহিল, ”এ কখনোই সহ করা যাইতে পারে না । কলিকাতায় কী ঘটিতেছিল, তাহ কানে না তুলিলেও চলিত, কিন্তু এমন সাহস যে মহেঞ্জকে চিঠির উপর চিঠি লিথিয়া পাড়ায় আনিয়া এমন প্রকাশু নির্লজ্জতা ! এরূপ ভ্ৰষ্টাকে গ্রামে রাখিলে তো চলিবে না।” বিনোদিনী আজ নিশ্চয় আশা করিয়াছিল, বিহারীর পত্রের উত্তর পাইবে, কিন্তু উত্তর আসিল না। বিনোদিনী মনে মনে বলিতে লাগিল, “আমার উপরে বিহারীর কিসের অধিকার । আমি কেন তাহার হুকুম শুনিতে গেলাম। আমি কেন তাহাকে বুঝিতে দিলাম যে, সে আমার প্রতি যেমন বিধান করিবে আমি তাহাই নতশিরে গ্রহণ করিব । তাহার ভালোবাসার আশাকে বাচাইবার জন্য বেটুকু দরকার, আমার সঙ্গে কেবলমাত্র তাহার সেইটুকু সম্পর্ক ? আমার নিজের কোনো প্রাপ্য নাই, দাবি নাই, সামান্ত দুই ছত্র চিঠিও না— আমি এত তুচ্ছ, এত ঘূণার সামগ্ৰী ?” তখন ঈর্ষার বিষে বিনোদিনীর সমস্ত বক্ষ পূর্ণ হইয়া উঠিল— সে