পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৫৫২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


4లి• ब्ररौठा-ब्रछनांबलौ আজ আমরা সমাজের সমস্ত কর্তব্য নিজের চেষ্টায় একে একে সমাজবহির্ভূক্ত স্টেটের হাতে তুলিয়া দিবার জন্য উদ্যত হইয়াছি। এমন কি, আমাদের সামাজিক প্রথাকেও ইংরেজের আইনের দ্বারাই আমরা অপরিবর্তনীয়রূপে আষ্টেপৃষ্ঠে বাধিতে দিয়াছি— কোনো আপত্তি করি নাই। এ-পর্যন্ত হিন্দুসমাজের ভিতরে থাকিয়া নব নব সম্প্রদায় আপনাদের মধ্যে বিশেষ বিশেষ আচারবিচারের প্রবর্তন করিয়াছে, হিন্দুসমাজ তাহাদিগকে তিরস্কৃত করে নাই । আজ হইতে সমস্তই ইংরেজের আইনে বাধিয়া গেছে— পরিবর্তনমাত্রেই আজ নিজেকে অহিন্দু বলিয়া ঘোষণা করিতে বাধ্য হইয়াছে। ইহাতে বুঝা যাইতেছে, যেখানে আমাদের মর্মস্থান— যে মর্মস্থানকে আমরা নিজের অন্তরের মধ্যে সযত্নে রক্ষা করিয়া এতদিন বাচিয়া আসিয়াছি, সেই আমাদের অন্তরতম মর্মস্থান— আজ অনাবৃত অবারিত হইয়া পড়িয়াছে, সেখানে আজ বিকলতা আক্রমণ করিয়াছে। ইহাই বিপদ, জলকষ্ট বিপদ নহে । পূর্বে র্যাহারা বাদশাহের দরবারে রায়রায় হইয়াছেন, নবাবরা যাহাদের মন্ত্রণা ও সহায়তার জন্য অপেক্ষা করিতেন, তাহারা এই রাজপ্রসাদকে যথেষ্ট জ্ঞান করিতেন না— সমাজের প্রসাদ রাজপ্ৰসাদের চেয়ে তাহাদের কাছে উচ্চে ছিল । তাহারা প্রতিপত্তিলাভের জন্য নিজের সমাজের দিকে তাকাইতেন । রাজরাজেশ্বরের রাজধানী দিল্লি তাহাদিগকে যে-সম্মান দিতে পারে নাই, সেই চরম সম্মানের জন্য র্তাহাদিগকে অখ্যাত জন্মপল্লীর কুটিরদ্ধারে আসিয়া দাড়াইতে হইত। দেশের সামান্ত লোকেও বলিবে মহদাশয় ব্যক্তি, ইহা সরকারদত্ত রাজা-মহারাজা উপাধির চেয়ে তাহাদের কাছে বড়ো ছিল । জন্মভূমির সম্মান ইহারা অস্তরের সহিত বুঝিয়াছিলেন— রাজধানীর মাহাত্ম্য, রাজসভার গৌরব ইহাদের চিত্তকে নিজের পল্পী হইতে বিক্ষিপ্ত করিতে পারে নাই । এইজন্য দেশের অখ্যাত গ্রামেও কোনোদিন জলের কষ্ট হয় নাই, এবং মচুন্যত্বচর্চার সমস্ত ব্যবস্থা পল্লীতে পল্লীতে সর্বত্রই রক্ষিত হইত। দেশের লোক ধন্য বলিবে, ইহাতে আজ আমাদের স্বখ নাই ; কাজেই দেশের দিকে আমাদের চেষ্টার স্বাভাবিক গতি নহে । ” এখন সরকারের নিকট হইতে হয় ভিক্ষা, নয় তাগিদ দরকার হইয়া পড়িয়াছে । এখন দেশের জলকষ্ট-নিবারণের জন্য গবমেন্ট দেশের লোককে তাগিদ দিতেছেন— স্বাভাবিক তাগিদগুলা সব বন্ধ হইয়া গেছে । দেশের লোকের নিকটে খ্যাতি, তাহাও রোচে না । আমাদের হৃদয় যে গোরার কাছে দাসখত লিখিয়া দিয়াছে, আমাদের রুচি যে সাহেবের দোকানে বিকাইয়া গেল ! আমাকে ভুল বুঝিবার সম্ভাবনা আছে। আমি এ-কথা বলিতেছি না যে,