পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৫৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সোনার তরী শশী যেথা ছিল সেথাই রহিল, সেও ব’সে এক ঠাই । অবশেষে যবে জীবনের দিন আর বেশি বাকি নাই, এমন সময়ে সহসা কী ভাবি চাহিল সে মুখ ফিরে, দেখিল ধরণী হামল মধুর, স্থনীল সিন্ধুতীরে। সোনার ক্ষেত্রে কৃষাণ বসিয়া কাটিতেছে পাকা ধান, ছোটো ছোটো তরী পাল তুলে যায় মাঝি বসে গায় গান । দূরে মন্দিরে বাজিছে কাসর, বধুরা চলেছে ঘাটে, মেঠো পথ দিয়ে গৃহস্থজন আসিছে গ্রামের হাটে । নিশ্বাস ফেলি রহে আঁখি মেলি, কহে ম্রিয়মাণ মন, “শশী নাহি চাই যদি ফিরে পাই আরবার এ জীবন ।” দেখিল চাহিয়া জীবনপূর্ণ সুন্দর লোকালয়, প্রতিদিবসের হরষে বিষাদে চির-কল্লোলময় । স্নেহস্থধা লয়ে গৃহের লক্ষ্মী ফিরিছে গৃহের মাঝে, প্রতিদিবসেরে করিছে মধুর প্রতিদিবসের কাজে । 8일)