পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৫৯২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


¢ዓመ রবীন্দ্র-রচনাবলী পক্ষে টাকা আছে, অন্ত পক্ষে শুদ্ধমাত্র চেকবইখানি আছে, এমন স্থলে সে ফাকা চেক ভাঙানো চলে না । ভিক্ষার স্বরূপে এক-আধবার দৈবাৎ চলে, কিন্তু দাবিস্বরূপে বরাবর চলে না— ইহাতে পেটের জালায় মধ্যে মধ্যে রাগ হয় বটে, এক-একবার মনে হয়, আমাকে অপমান করিয়া ফিরাইয়া দিল— কিন্তু সে-অপমান, সে-ব্যর্থতা তারস্বরেই হউক, আর নিঃশবেই হউক, গলাধঃকরণপূর্বক সম্পূর্ণ পরিপাক করা ছাড়া আর গতি নাই। এরূপ প্রতিদিনই দেখা যাইতেছে । আমরা বিরাট সভাও করি, খবরের কাগজেও লিখি, আবার যাহা হজম করা বড়ো কঠিন তাহা নিঃশেষে পরিপাকও করিয়া থাকি। পূর্বের দিনে যাহা একেবারে অসহ বলিয়া ঘোষণা করিয়া বেড়াই, পরের দিনে তাহার জন্ত বৈদ্য ডাকিতে হয় না। আশা করি, অামাকে সকলে বলিবেন, তুমি অত্যন্ত পুরাতন কথা বলিতেছ, নিজের কাজ নিজেকে করিতে হইবে, নিজের লজ্জা নিজেকে মোচন করিতে হইবে, নিজের সম্পদ নিজেকে অর্জন করিতে হইবে, নিজের সম্মান নিজেকে উদ্ধার করিতে হইবে, এ-কথার নূতনত্ব কোথায় । পুরাতন কথা বলিতেছি, এমন অপবাদ আমি মাথায় করিয়া লইব ; আমি নূতন-উদ্ভাবনা-বর্জিত, এ-কলঙ্ক অঙ্গের ভূষণ করিব। কিন্তু যদি কেহ এমন কথা বলেন যে, এ আবার তুমি কী নূতন কথা তুলিয়া বসিলে তবেই আমার পক্ষে মুশকিল— কারণ, সহজ কথাকে যে কেমন করিয়া প্রমাণ করিতে হয়, তাহা হঠাৎ ভাবিয়া পাওয়া শক্ত । দুঃসময়ের প্রধান লক্ষণই এই, তখন সহজ কথাই কঠিন ও পুরাতন কথাই অদ্ভুত বলিয়া প্রতীত হয় । এমন কী শুনিলে লোকে ক্রুদ্ধ হইয়া উঠে, গালি দিতে থাকে। জনশূন্ত পদ্মার চরে অন্ধকার রাত্রে পথ হারাষ্টয়া জলকে স্থল, উত্তরকে দক্ষিণ বলিয়া যাহার ভ্রম হইয়াছে, সেই জানে, যাহা অত্যন্ত সহজ, অন্ধকারে তাহা কিরূপ বিপরীত কঠিন হইয়া উঠে ; যেমনই আলো হয়, অমনি মুহূর্তেই নিজের ভ্রমের জন্ত বিস্ময়ের অস্ত থাকে না। আমাদের এখন অন্ধকার রাত্ৰি— এ-দেশে যদি কেহ অত্যন্ত প্রামাণিক কথাকেও বিপরীত জ্ঞান করিয়া কটক্তি করেন, তবে তাহাও সকরুণ চিত্ত্বে সহ করিতে হইবে, আমাদের কুগ্রহ ছাড়া কাহাকেও দোষ দিব না । আশা করিয়া থাকিব, একদিন ঠেকিয়া শিখিতেই হইবে, উত্তরকে দক্ষিণ জ্ঞান করিয়া চলিলে একদিন না ফিরিয়া উপায় নাই। 孵 অথচ আমি নিশ্চয় জানি, সকলেরই ৰে এই দশা তাহা নহে। আমাদের এমন অনেক উৎসাহী যুবক । আছেন, র্যাহারা দেশের জন্ত কেবল বাক্যব্যয় নহে, ত্যাগস্বীকারে প্রস্তুত। কিন্তু কী করিবেন, কোথায় যাইবেন, কী দিবেন, কাহাকে দিবেন, কাহারও কোনো ঠিকানা পান না। বিচ্ছিন্নভাবে ত্যাগ করিলে কেবল নষ্টই করা ट्ब्र ।