পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৫৯৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আত্মশক্তি ४१७ স্বায়ত্তশাসন । আমরা মাথায় হাত দিয়া কঁাদিতেছি যে, রিপন আমাদিগকে স্বায়ত্তশাসন দিয়াছিলেন, তাহার পরের কতারা তাহা কাড়িয়া লইতেছেন । কিন্তু ধিক এই কান্না ! যাহা একজন দিতে পারে, তাহ আর-একজন কাড়িয়া লইতে পারে, ইহা কে না জানে। ইহাকে স্বায়ত্তশাসন নাম দিলেই কি ইহা স্বায়ত্তশাসন হইয়া উঠিবে। অথচ স্বায়ত্তশাসনের অধিকার আমাদের ঘরের কাছে পড়িয়া আছে— কেহ তাহা কাড়ে নাই এবং কোনোদিন কাড়িতে পারেও না । আমাদের গ্রামের, আমাদের পল্লীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পথঘাটের উন্নতি, সমস্তই আমরা নিজে করিতে পারি — যদি ইচ্ছা করি, যদি এক হই ; এ-জন্য গবর্মেন্টের চাপরাস বুকে বাধিবার কোনো দরকার নাই । কিন্তু ইচ্ছা যে করে না, এক যে হই না । তবে চুলায় যাক স্বায়ত্তশাসন । তবে দড়ি ও কলসির চেয়ে বন্ধু আর কেহ নাই । পরম্পরায় শুনিয়াছি, আমাদের দেশের কোনো রাজাকে একজন উচ্চপদস্থ রাজকমচারী বন্ধুভাবে বলিয়াছিলেন যে, গবমেণ্টকে অকুরোধ করিয়া আপনাকে উচ্চতর উপাধি দিব— তাহাতে তেজস্বী রাজা উত্তর করিয়াছিলেন, “দোহাই আপনার, আপনি আমাকে রাজা বলুন, বাবু বলুন, যাহা ইচ্ছা বলিয়া ভাকুন, কিন্তু আমাকে এমন উপাধি দিবেন না, যাহা আজ ইচ্ছা করিলে দান করিতে পারেন, কাল ইচ্ছা করিলে হরণ করিতেও পারেন । আমার প্রজারা আমাকে মহারাজ-অধিরাজ বলিয়াই জানে, সে-উপাধি হইতে কেহই আমাকে বঞ্চিত করিতে পারে না।” তেমনি আমরাও যেন বলিতে পারি, দোহাই সরকার, আমাদিগকে এমন স্বায়ত্তশাসন দিয়া কাজ নাই, যাহা দিতেও যতক্ষণ কাড়িতেও ততক্ষণ— যে-স্বায়ত্তশাসন আমাদের আছে, দেশের মঙ্গলসাধন করিবার যে অধিকার বিধাতা আমাদের হস্তে দিয়াছেন, মোহমুক্ত চিত্তে, দৃঢ় নিষ্ঠার সহিত তাহাই যেন আমরা অঙ্গীকার করিতে পারি— রিপনের জয় হউক এবং কর্জনও বাচিয়া থাকুন। আমি পুনরায় বলিতেছি, দেশের বিদ্যাশিক্ষার ভার আমাদিগকে গ্রহণ করিতে হইবে । সংশয়ী বলিবেন, শিক্ষার ভার যেন আমরা লইলাম, কিন্তু কম দিবে কে ? কমণ্ড আমাদিগকে দিতে হইবে । একটি বৃহৎ স্বদেশী কম ক্ষেত্র আমাদের আয়ত্তগত না থাকিলে আমাদিগকে চিরদিনই দুর্বল থাকিতে হইবে, কোনো ৰৌশলে এই নিজাঁৰ দুর্বলতা হইতে নিষ্কৃতি পাইব না। যে আমাদিগকে কম দিবে সেই আমাদের প্রতি কতৃত্ব করিবে, ইহার অন্যথা হইতেই পারে না— যে কতৃত্ব লাভ করিবে সে আমাদিগকে চালনা করিবার কালে নিজের স্বাৰ্থ বিশ্বত হইবে না, (۹۱ - شعا