পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৬১৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


उप्रांप्यूभवंखेिळ | ○○" সমাজের হিতসাধনের উপযোগী ছিল। এখন সমাজের সহিত ৰিষ্কার পরম্পর সহায়তার যোগ নাই। ইহাতে এতকাল পরে শিক্ষাসাধনব্যাপার ভারতবর্ষে রাজার প্রসাদ-অপেক্ষী হইয়াছে । এ অবস্থায় রাজা যদি মনে করেন, তাহাদের রাজ-পলিসির অমুকুল করিয়াই শিক্ষার ব্যবস্থা করিতে হইবে, রাজভক্তির ছাচে ঢালিয়া ইতিহাস রচিতে হইবে, বিজ্ঞানশিক্ষাটাকে পাকে-প্রকারে খর্ব করিতে হইবে, ভারতবর্ষীয় ছাত্রের সর্বপ্রকার আত্মগৌরবকে সংকুচিত করিতে হইবে, তবে তাহাদিগকে দোষ দেওয়া যায় না— কর্তার ইচ্ছা কর্ম— আমরা সে-কর্মের ফলভোগ করিব, কিন্তু সে কর্মের উপরে কতৃত্ব করিবার আশা করিব কিসের জোরে । তা ছাড়া, বিদ্যা জিনিসটা কলকারখানার সামগ্ৰী নহে। তাহ মনের ভিতর হইতে না দিলে দিবার জো নাই । লাটসাহেব তাহার অক্সফোর্ড-কেমব্রিজের আদর্শ লইয়া কেবলই আস্ফালন করিয়াছেন , এ-কথা ভুলিয়াছেন যে, সেখানে ছাত্র ও অধ্যাপকের মধ্যে ব্যবধান নাই, সুতরাং সেখানে বিদ্যার আদানপ্রদান স্বাভাবিক । শিক্ষক সেখানে বিস্তাদানের জন্য উন্মুখ এবং ছাত্রেরাও বিদ্যালাভের জন্য প্রস্তুত— পরস্পরের মাঝখানে অপরিচয়ের দূরত্ব নাই, আশ্রদ্ধার কণ্টক-প্রাচীর নাই, কাজেই সেখানে মনের জিনিস মনে গিয়া পৌছায়। পেড লারের মতো লোক আমাদের দেশের অধ্যাপক, শিক্ষাবিভাগের অধ্যক্ষ,— তিনি আমাদিগকে কী দিতে পারেন, আমরাই বা র্তাহার কাছ হইতে কী লইতে পারি হৃদয়ে হৃদয়ে যেখানে স্পর্শ নাই, যেখানে স্থম্পষ্ট বিরোধ ও বিদ্বেষ আছে, সেখানে দৈববিড়ম্বনায় যদি দানপ্রতিদানের সম্বন্ধ স্থাপিত হয় তবে সে-সম্বন্ধ হইতে শুধু নিষ্ফলতা নহে, কুফলতা প্রত্যাশা করা যায়। সর্বাপেক্ষা এইজন্যই বিশেষ প্রয়োজন হইয়াছে, নিজেদের বিদ্যাদানের ব্যবস্থাভার নিজেরা গ্রহণ করা । তাহাতে আমাদের বিস্তামন্দিরে কেমব্রিজ-অক্সফোর্ডের প্রকাও পাষাণ প্রতিরূপ প্রতিষ্ঠিত হইবে না জানি, তাহার সাজসরঞ্জাম দরিত্রের উপযুক্ত হইবে, ধনীর চক্ষে তাহার অসম্পূর্ণতাও অনেক লক্ষিত হইবে,– কিন্তু জাগ্রত সরস্বতী শ্রদ্ধাশতদলে আসীন হইবেন, তিনি জননীর মতো করিয়া সস্তানদিগকে অমৃত পরিবেষণ করিবেন, ধনমদগবিতা বণিকপৃহিণীর মতো উচ্চ বাতায়নে দাড়াইয়া দূর হইতে ভিক্ষুকবিদায় করিবেন না। পরের কাছ হইতে হৃদ্যতাবিহীন দান লইবার একটা মস্ত লাঞ্ছনা এই যে, গৰিত দাতা খুব বড়ো করিয়া খরচের হিসাব রাখে, তাহার পরে দুই বেলা খোটা দেয়, “এত দিলাম তত দিলাম, কিন্তু ফলে কী হইল।” মা স্তন্তদান করেন, খাতায় তাহার و سیستمه 2\