পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৬৪২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


అను রবীন্দ্র-রচনাবলী নিত্রার সহায়তা কেহ করিয়ো না— আরাম আমাদের জন্য নহে, পরবশতার অহিফেনের মাত্রা প্রতিদিন আর বাড়িতে দিয়ে না— বিধাতার রুদ্রমূর্তিই আজ আমাদের পরিত্রাণ ! জগতে জড়কে সচেতন করিয়া তুলিবার এইমাত্র উপায় আছে— আঘাত, অপমান ও অভাব ; সমাদর নহে, সহায়তা নহে, স্বভিক্ষা নহে। ব্ৰত ধারণ কোনো স্ত্রীসমাজে জনৈক মহিল-কতৃক পঠিত আজ এই স্ত্রীসমাজে আমি যে উপদেশ দিতে উঠিয়াছি বা আমার কোনো নূতন কথা বলিবার আছে, এমন অভিমান আমার নাই । আমার কথা নূতন নহে বলিয়াই, কাহাকেও উপদেশ দিতে হইবে না বলিয়াই, আমি আজ সমস্ত সংকোচ পরিহার করিয়া আপনাদের সম্মুখে দণ্ডায়মান হইয়াছি। যে-কথাটি আজ দেশের অস্তরে অস্তরে সর্বত্র জাগ্রত হইয়াছে, তাহাকেই নারীসমাজের নিকট সুস্পষ্টরূপে গোচর করিয়া তুলিবার জন্যই আমাদের অন্তকার এই উদযোগ । আমাদের দেশে সম্প্রতি একটি বিশেষ সময় উপস্থিত হইয়াছে, তাহা আমর। সকলেই অনুভব করিতেছি । অল্পদিনের মধ্যে আমাদের দেশ আঘাতের পর আঘাত প্রাপ্ত হইয়াছে । হঠাৎ বুঝিতে পারিয়াছি যে, আমাদের যাত্রাপথের দিকৃপরিবর্তন করিতে হইবে । যে-সময়ে এইরূপ দেশব্যাপী আঘাতের তাড়না উপস্থিত হইয়াছে, যে-সময়ে আমাদের সকলেরই হৃদয় কিছু না কিছু চঞ্চল হইয়া উঠিয়াছে, সেই সময়কে যদি আমরা উপেক্ষা করি তবে বিধাতার প্রেরণাকে অবজ্ঞা করা হইবে । # ইহাকে দুৰ্যোগ বলিব কি। এই-যে দিগ দিগন্তে ঘন মেঘ করিয়া শ্রাবণের অন্ধকার ঘনাইয়া আসিল, এই-ষে বিদ্যুতের আলোক এবং বঞ্জের গর্জন আমাদের হৃৎপিণ্ডকে চকিত করিয়া তুলিতেছে, এই-যে জলধারাবর্ষণে পৃথিবী ভাসিয়া গেল— এই দুৰ্যোগকেই যাহারা স্থযোগ করিয়া তুলিয়াছে তাহারাই পৃথিবীর অন্ন জোগাইবে । এখনই স্কন্ধে হল লইয়া কৃষককে কোমর বাধিতে হইবে । এই সময়টুকু যদি অতিক্রম করিতে দেওয়া হয় তবে সমস্ত বৎসর দুভিক্ষ এবং হাহাকার । আমাদের দেশেও সম্প্রতি ঈশ্বর দুর্যোগের বেশে যে-স্থযোগকে প্রেরণ করিয়াছেন তাহাকে নষ্ট হইতে দিব না বলিয়াই আজ আমাদের সামান্ত শক্তিকেও যথাসম্ভব সচেষ্ট