পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৬৬৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


৬৪৫ এই সকল স্থানের প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষাপ্ৰণালী পরিবর্তন করিয়া পাঠ্য বিষয় সরল করিবার . প্ৰস্তাব বিচার করিবার জন্য গবৰ্মেট একটি কমিটি বসাইয়াছিলেন। পাঁচ জন এই কমিটির সদস্য .…. দশম প্যারাগ্ৰাফে কমিটি বলিতেছেন— বাংলা নিম্ন প্ৰাইমারি স্কুলে প্ৰচলিত পাঠ্যপুস্তকগুলির অধিকাংশ নৃত্যুনাধিক সংস্কৃতায়িত ( sans critized) ভাষায় লেখা হইয়া, থাকে, তাহার মধ্যে এমন-সকল পরিভাষা থাকে যাহা পৰিবাসীরা বোঝে না। অতএব, এই-সকল স্কুলের উপযুক্ত আদৰ্শপাঠ্যগ্ৰন্থ তৈরি করিবার জন্য কয়েকটি বিচক্ষণ কৰ্মচারী লইয়া একটি বিশেষ সমিতি স্থাপিত হউক। বইগুলি প্ৰথমে ইংরাজিতে লেখা হইবে, তাহার পরে সরকার মজুর করিলে কমিশনার সাহেব ও স্কুল-ইনস্পেক্টরদের সঙ্গে পরামৰ্শ করিয়া শিক্ষাবিভাগের ডিরেক্টার বইগুলিকে স্থানীয় প্ৰচলিত ভাষায় ( local vernaculars) তৰ্জমা করিবার জন্য লোক নিৰ্বাচন করিবেন। ……… মনে করিয়াছিলাম, বাংলার "local wernacular বাংলা, বেহারের বেহারী, উড়িষ্যার উড়িয়া।

একাদশ প্যারাগ্ৰাফে কমিটি বলিতেছেন:— ইংরেজি আদৰ্শপাঠ্য পুস্তকগুলি যথেষ্টপরিমাণ স্থানীয় প্ৰচলিত ভাষায় তৰ্জমা হওয়াটাকে কমিটি অত্যন্ত প্ৰয়োজনীয় ব্যাপার বলিয়া মনে করেন। যথা তঁহাদের বিবেচনায় বেহারে অন্তত তিন উপভাষায় তৰ্জমা হওয়া চাই, ত্ৰিহুতি, ভোজপুরি এবং মৈথিলি; এবং বাংলাদেশে অস্তুতপক্ষে উত্তর, পূৰ্ব, মধ্য এবং পশ্চিম ভাষায় তৰ্জমা হওয়া উচিত হইবে।

চারিজন ইংরেজ ও তাঁহাদের অনুগত একজন বাঙালি [ কৃষ্ণগোবিন্দ গুপ্ত ] বাংলাদেশের শিক্ষা প্ৰণালীর ভিত্তিপত্তনে ভাষা বিছেদ ঘটানোটাকে “matter of great importance ” গুরুতর প্ৰয়োজনীয় ব্যাপার বলিয়া মনে করেন।..

কমিটি বলিতেছেন, ইহাতে চাষীদের উপকার হইবে; কিন্তু.. একতলায় এমন উপকার করিতে বসা ঠিক নয়, যাহাতে কিছুদিন পরেই দোতলায় ফাটল ধরিতে আরম্ভ হয়। সেটা দোতলার পক্ষে মন্দ এবং একতলার পক্ষেও ভালো নয়। সরকারবাহাদুর যদি ভারতবর্ষের দেশে দেশে ভাষাৰিচ্ছেদ শুরু করিয়া দেন, তবে বিপল্লীতে তাহার সুত্ৰেপাত ৩-৮২