পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ত্রয়োবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/১৯১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রবীন্দ্র-রচনাবলী همالا ইস্কাৰনী । সর্বনাশ! এমন ধাষ্টমির কথা তো সাত জন্মে শুনি নি। উনি ঢাক পিটিয়ে মানবী হতে চলেছেন। চল ভাই, টেঙ্কারানী, কে কোথা থেকে দেখবে, ওর সঙ্গে কথা কচ্ছি, আমাদের স্বন্ধ মজাবে। [ প্রস্থান চতুর্থ দৃশ্য শ্রীমতী হরতনী টেক্কার প্রবেশ হরতনী । গান আমি ফুল তুলিতে এলেম বনে, জানি নে কী ছিল মনে । এ তো ফুল তোলা নয়, এ তো ফুল তোলা নয়, বুঝি নে কী মনে হয়, জল ভরে যায় দু নয়নে ॥ রুইতনের সাহেবের প্রবেশ রুইতন। এ কী, হরতনী, তুমি এখানে ? খুজতে খুজতে বেলা হয়ে গেল ষে । হরতনী । কেন, কী হয়েছে, কী চাই । রুইতন। তোমাকে ডাক পড়েছে রাজসভার গরীবুমণ্ডলে । হরতনী । বলো গে, আমি হারিয়ে গেছি। রুইতন । হারিয়ে গেছ ? হরতলী । ই, হারিয়ে গেছি, যাকে খুজিছ তাকে আর খুজে পাবে না, কোনোদিনই । রুইতন। এ কা কাও । এ কী দুঃসাহস । এই বনে এসেছ তুমি ? জান না— নিয়ম নেই ? হরতলী । নিয়ম তো নেই, কিন্তু কার নিয়মে বর্ষাবিহীন তাসের দেশে আজ এমন ঘনঘটা । হঠাৎ সকালে উঠেই দেখি, নীল মেঘ আকাশ জুড়ে । এতদিন তোমাদের দেশের ময়ুর গুনে গুনে পা ফেলত, নাচত সাবধানে, আজ কেন এমন অনিয়মের নাচ নাচল, সমস্ত পেখম ছড়িয়ে দিয়ে । রুইতন। কিন্তু, ঘর হতে যার আঙিন বিদেশ, সেও জাজ ফুল তুলতে বেরিয়েছে— এতবড়ো অদ্ভুত কাজ তোমার মাথায় এল কী করে।