পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ত্রয়োবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/১৯৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রবীন্দ্র-রচনাবলী و سألا ইস্কাবনী ও টেকান ফুল তুলছে টেক্কানী। ঐ-রে, দহলানী এসেছে । আর রক্ষে নেই। দহলানীর প্রবেশ দহলানী। লুকোচ্ছ কোথায় । কে গো, চেনা যায় না যে ! এ-ষে আমাদের টেক্কানী। আর, উনি কে, উনি যে আমাদের ইস্কাবনী । মরে যাই। কী ছিরি করেছ! মানুষ সেজেছ বুঝি ? লজ্জা নেই ? টেক্কানী । সাজি নি, দৈবাৎ সাজ খসে পড়েছে । দহলানী । তাসের দেশের বন্ধন অঁাট বন্ধন— হাজার বছরের হাজার গিরে দেওয়া, খসে পড়ল ? কাগুটা ঘটল কী ক’রে । ইস্কাবনী। একটা হাওয়া দিয়েছিল । দহলানী । ওমা, কী বলে। গো । তাসের দেশের হাওয়ায় বাধন ছেড়ে । আমাদের পবনদেবের নামে এত বড়ে বদনাম। বলি, এ কি মেলেচ্ছ দেশ পেয়েছ, যেখানে একটু হাওয়া দিলেই গাছের শুকনো পাতা খসে উড়ে যায় । ইঋীবনী । স্বচক্ষেই দেখো-না, দিদি, কী বদল ঘটিয়েছেন আমাদের পবনদেব ! দহলানী । দেখো, ছোটো মুখে বড়ো কথা ভালো নয়। আমাদের সনাতন পবনদেব ! তবে কিনা পুথিতে লিখছে তার এক মহাবীর পুত্র আছেন, তিনি নাকি লম্বা লম্বা লম্ফ দিয়ে বেড়ান। হয়তো বা তিনিই ভর করেছেন তোমাদের পরে । টেক্কানী। কেবল আমাদের খোটা দিচ্ছ কেন। এখনো চোখে বুঝি পড়ে নি ? তিনি যে লম্ফ লাগিয়েছেন তাসের দেশময় । তালিনীদের বুকে আগুন লাগিয়ে ८द७5f८छ्रुन ! ইস্কাবনী। সাগরপারের মানুষরা বলছে, তিনিই নাকি ওদের পূর্বপুরুষ। দহলালী। হতে পারে— ওরা লাফ-মারা বংশেরই সস্তান । টেক্কানী। আচ্ছা, সত্যি কথা বলো, দিদি— ভিতরে ভিতরে তোমারও মন চঞ্চল হয়েছে ? না, চুপ ক’রে থাকলে চলবে না। দহলানী । কাউকে বলে দিবি নে তো ? টেকানী । তোমার গা ছুয়ে বলছি, কাউকে বলব না। দহলানী। কাল ভোর রাত্তিরের ঘুমে স্বপ্ন দেখলুম, হঠাৎ মানুষ হয়ে গেছি, নড়েচড়ে বেড়াচ্ছি ঠিক ওদেরই মতো। জেগে উঠে লজ্জায় মরি আর-কি। কিন্তু— টেক্কানী । কিন্তু কী ।