পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ত্রয়োবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/২১৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Seb” রবীন্দ্র-রচনাবলী ইাপাইতে ইপিাইতে ছুটয়া আসিয়া একেবারে বনোয়ারির প। জড়াইয়া ধরিয়া হাউহাউ করিয়া কান্না জুড়িয়া দিল। "কী রে কী, ব্যাপারখান। কী।” স্বরূপ বলিল তাহার বাপকে নীলকণ্ঠ কাল রাত্রি হইতে কাছারিতে বন্ধ করিয়া রাখিয়াছে। বনোয়ারির সর্বশরীর রাগে কঁাপিতে লাগিল । কহিল, “এখনি গিয়া থানায় খবর দিয়া আয় গে।” কী সর্বনাশ ! থানায় খবর! নীলকণ্ঠের বিরুদ্ধে । তাহার পা উঠিতে চায় না। শেষকালে বনোয়ারির তাড়নায় থানায় গিয়া সে খবর দিল । পুলিশ হঠাৎ কাছারিতে আসিয়া বন্ধনদশা হইতে মধুকে খালাস করিল এবং নীলকণ্ঠ ও কাছারির কয়েকজন পেয়াদাকে আসামী করিয়া ম্যাজিস্টে টের কাছে চালান করিয়া দিল । মনোহর বিষম ব্যতিব্যস্ত হইয়া পড়িলেন । তাহার মকদ্দমার মন্ত্রীরা ঘুষের উপলক্ষ্য করিয়া পুলিসের সঙ্গে ভাগ করিয়া টাকা লুটিতে লাগিল । কলিকাতা হইতে এক বারিস্টার আসিল, সে একেবারে কাচা, নূতন পাস করা। স্বাবধা এষ্ট, যত ফি তাহার নামে খাতায় খরচ পড়ে তত ফি তাহার পকেটে উঠে না। ওদিকে মধুকৈবর্তের পক্ষে জেলা-আদালতের একজন মাতব্বর উকিল নিযুক্ত হইল। কে যে তাহার খরচ জোগাইতেছে বোঝা গেল না । নীলকণ্ঠের ছয় মাস মেয়াদ হইল । হাইকোর্টের আপিলেও তাহাই বহাল রহিল । ঘড়ি এবং বন্দুকটা যে উপযুক্ত মূল্যে বিক্রয় হইয়াছে তাহা ব্যর্থ হইল না— আপাতত মধু বাচিয়া গেল এবং নীলকণ্ঠের জেল হইল। কিন্তু, এই ঘটনার পরে মধু তাহার ভিটায় টিকিবে কী করিয়া ? বনোয়ারি তাহাকে আশ্বাস দিয়া কহিল, “তুই থাক, তোর কোনো ভয় নাই ।” কিসের জোরে যে আশ্বাস দিল তাহা সেই জানে— বোধ করি, নিছক নিজের পৌরুষের স্পধর্ণয় । বনোয়ারি যে এই ব্যাপারের মূলে আছে তাহা সে লুকাইয়া রাথিতে বিশেষ চেষ্ট৷ করে নাই। কথাটা প্রকাশ হইল ; এমন-কি কর্তার কানেও গেল। তিনি চাকরকে দিয়া বলিয়া পাঠাইলেন, “বনোয়ারি যেন কদাচ আমার সম্মুখে না আলে।” বনোয়ারি পিতার আদেশ অমান্ত করিল না। কিরণ তাহার স্বামীর ব্যবহার দেখিয়া অবাক। এ কী কাও । বাড়ির বড়োবাবুবাপের সঙ্গে কথাবার্তা বন্ধ ! তার উপরে নিজেদের আমলাকে জেলে পাঠাইয়া বিশ্বের লোকের কাছে নিজের পরিবারের মাথা হেঁট করিয়া দেওয়া! তাও এই এক সামান্ত মধুকৈবর্তকে লইয়া। অদ্ভূত বটে। এ বংশে কতকাল ধরিয়া কত বড়োবাবু জন্মিয়াছে এবং কোনোদিন নীলকণ্ঠেরও অভাব নাই। নীলকণ্ঠের বিষয়ব্যবস্থার সমস্ত দায় নিজের লইয়াছে আর