পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ত্রয়োবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/২২৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গল্পগুচ্ছ 嘎 ২১৭ ও প্রতিযোগী জমিদার ছিল প্রতাপপুরের বাড়ুজ্যে জমিদারেরা। বনোয়ারি স্থির করিল, “এই দলিল-দস্তাবেজ তাহাদের হাতে দিব, বিষয়সম্পত্তি সমস্ত ছারখার হইয়া যাক্ । বাহির হইবার সময় হরিদাস উপরের তলা হইতে তাহার স্বমধুর বালককণ্ঠে চীৎকার করিয়া উঠিয়া কহিল, “জ্যাঠামশায়, তুমি বাহিরে যাইতেছ, আমিও তোমার সঙ্গে বাহিরে যাইব ।” বনোয়ারির মনে হইল, বালকের অশুভগ্রহ এই কথা তাহাকে দিয়া বলাইয়া লইল । ‘আমি তো পথে বাহির হইয়াছি, উহাকে ও আমার সঙ্গে বাহির করিব । যাবে যাবে, সব ছারখার হইবে ।” বাহিরের বাগান পর্যন্ত যাইতেই বনোয়ারি একটা বিষম গোলমাল শুনিতে পাইল। অদূরে হাটের সংলগ্ন একটি বিধবার কুটিরে আগুন লাগিয়াছে। বনোয়ারির চিরাভ্যাসক্রমে এ দৃপ্ত দেখিয়া সে আর স্থির থাকিতে পারিল না। তাহার দলিলের তাড়া সে চাপাতলায় রাখিয়া অt গুনের কাছে ছুটিল । যখন ফিরিয়া আসিল, দেখিল, তাহার সেই কাগজের তাড়া নাই। মুহূর্তের মধ্যে হৃদয়ে শেল বিধাইয়া এই কথাটা মনে হইল, ‘নীলকণ্ঠের কাছে আবার আমার হার হইল। বিধবার ঘর জলিয়া ছাই হইয়া গেলে তাহাতে ক্ষতি কী ছিল।’ তাহার মনে হইল, চতুর নীলকণ্ঠই ওটা পুনর্বার সংগ্ৰহ করিয়াছে। একেবারে ঝড়ের মতো সে কাছারিঘরে আসিয়া উপস্থিত । নীলকণ্ঠ তাড়াতাড়ি বাক্স বদ্ধ করিয়া সসম্রমে দাড়াইয়া উঠিয়া বনোয়ারিকে প্রণাম করিল। বনোয়ারির মনে হইল, ঐ বাক্সের মধ্যেই সে কাগজ লুকাইল । কোনোকিছু না বলিয়া একেবারে সেই বাক্সট খুলিয়া তাহার মধ্যে কাগজ ঘাটিতে লাগিল। তাহার মধ্যে হিসাবের থাত এবং তাহারই জোগাড়ের সমস্ত নথি । বাক্স উপুড় করিয়া ঝাড়িয়া কিছুই মিলিল না। রুদ্ধপ্রায় কণ্ঠে বনোয়ারি কহিল, “তুমি চাপাতলায় গিয়াছিলে ?” নীলকণ্ঠ বলিল, “আজ্ঞা, ই, গিয়াছিলাম বই-কি । দেখিলাম, আপনি ব্যস্ত হইয়া ছুটিতেছেন, কী হইল তাহাই জানিবার জন্ত বাহির হইয়াছিলাম।” বনোয়ারি । আমার রুমালে-বাধা কাগজগুলা তুমিই লইয়াছ । নীলকণ্ঠ নিতান্ত ভালোমামুষের মতো কহিল, “আজ্ঞা, না।” বনোয়ারি। মিথ্যা কথা বলিতেছ। তোমার ভালো হইবে না, এখনি किब्राहेग्न नांe । २७ S ét