পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ত্রয়োবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/২৪২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


하國한5家 ఫిలి) তাহার সঙ্গে ভাগ করিয়া লইয়াছি। সেই দুঃখে হৈমর সঙ্গে আমার যোগ ছিল, তাহাতে আমাদিগকে পৃথক করে নাই। কিন্তু, এই গিরিনন্দিনী সতেরো বৎসর-কাল অন্তরে বাহিরে কত বড়ো একটা মুক্তির মধ্যে মানুষ হইয়াছে। কী নির্মল সত্যে এবং উদার আলোকে তাহার প্রকৃতি এমন ঋজু শুভ্র ও সবল হইয়া উঠিয়াছে। তাহা হইতে হৈম যে কিরূপ নিরতিশয় ও নিষ্ঠুররূপে বিচ্ছিন্ন হইয়াছে এতদিন তাহা আমি সম্পূর্ণ অতুভৰ করিতে পারি নাই, কেননা সেখানে তাহার সঙ্গে আমার সমান আসন ছিল না । হৈম যে অস্তরে অস্তরে মুহুর্তে মুহূর্তে মরিতেছিল । তাহাকে আমি সব দিতে পারি কিন্তু মুক্তি দিতে পারি না— তাহা আমার নিজের মধ্যে কোথায় ? সেই জন্তই কলিকাতার গলিতে ঐ গরীদের ফাক দিয়া নির্বাকু আকাশের সঙ্গে তাহার নির্বাক্‌ মনের কথা হয় ; এবং এক-একদিন রাত্রে হঠাং জাগিয়া উঠিয়া দেখি, সে বিছানায় নাই ; হাতের উপর মাথা রাখিয়া আকাশ-ভরা তারার দিকে মুখ তুলিয়া ছাতে শুইয়া আছে । মার্টিনো পড়িয়া রহিল । ভাবিতে লাগিলাম, কী করি । শিশুকাল হইতে বাবার কাছে আমার সংকোচের অন্ত ছিল না— কখনো মুখামুখি তাহার কাছে দরবার করিবার সাহস বা অভ্যাস আমার ছিল না । সেদিন থাকিতে পারিলাম না। লজ্জার মাথা থাইয়া তাহাকে বলিয়া বসিলাম, *বউয়ের শরীর ভালো নয়, তাহাকে একবার বাপের কাছে পাঠাইলে হয় ।” বাবা তো একেবারে হতবুদ্ধি । মনে লেশমাত্র সন্দেহ রহিল না যে, হৈমই এরূপ অভূতপূর্ব স্পধর্ণয় আমাকে প্রবর্তিত করিয়াছে। তখনই তিনি উঠিয়া অন্তঃপুরে গিয়া হৈমকে জিজ্ঞাসা করিলেন, "বলি, বউমা, তোমার অসুখটা কিসের ” হৈম বলিল, “অমুখ তো নাই ।” বাবা ভাবিলেন, এ উত্তরটা তেজ দেখাইবার জন্য । কিন্তু, হৈমর শরীরও যে দিনে দিনে শুকাইয়া যাইতেছিল তাহা আমরা প্রতিদিনের অভ্যাসবশতই বুঝি নাই। একদিন বনমালীবাবু তাহাকে দেখিয়া চমকিয়া উঠিলেন, *অ্যা, এ কী ! হৈনী, এ কেমন চেহারা তোর ! অস্থখ করে নাই তো ?” देश्भ कश्लि, “ञां ।” এই ঘটনার দিনদশেক পরেই, বলা নাই, কহা নাই, হঠাৎ আমার শ্বশুর আসিয়া উপস্থিত। হৈমর শরীরের কথাটা নিশ্চয় বনমালীবাবু তাহাকে লিখিয়াছিলেন। বিবাহের পর বাপের কাছে বিদায় লইবার সময় মেয়ে আপনার অশ্র চাপিয়া