পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ত্রয়োবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/২৫৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


२88 রবীন্দ্র-রচনাবলী লইয়া ডুবিয়া তবে সাম্বন পাইয়াছি। তাই দেবতাকে আমার গুরুর রূপেই দেখিতে পাইলাম । তিনি আসিদ্ধা আহার করিবেন এবং তার পর তার প্রসাদ পাইব, প্রতিদিন সকালে ঘুম হইতে উঠিয়াই এই কথাটি মনে পড়িত, আর সেই আয়োজনে লাগিয়া যাইতাম । তাহার জন্য তরকারি কুটিতাম, আমার আঙলের মধ্যে আনন্দধ্বনি বাজিত। ব্রাহ্মণ নই, তাহাকে নিজের হাতে রাধিয়া খাওয়াইতে পারিতাম না, তাই আমার হৃদয়ের সব ক্ষুধাটা মিটিত না । তিনি যে জ্ঞানের সমূদ্র, সেদিকে তো তার কোনো অভাব নাই। আমি সামান্য রমণী, আমি তাহাকে কেবল একটু খাওয়াইয়া-দাওয়াইয়া খুশি করিতে পারি, তাহাতেও এত দিকে এত ফাক ছিল । আমার গুরুসেবা দেখিয়া আমার স্বামীর মন খুশি হইতে থাকিত এবং আমার উপরে র্তাহার ভক্তি আরো বাড়িয়া যাইত । তিনি যখন দেখিতেন, আমার কাছে শাস্ত্রব্যাখ্যা করিবার জন্য গুরুর বিশেষ উৎসাহ, তখন তিনি ভাবিতেন, গুরুর কাছে বুদ্ধিহীনতার জন্য তিনি বরাবর অশ্রদ্ধা পাইয়াছেন, র্তাহার স্ত্রী এবার বুদ্ধির জোরে গুরুকে খুশি করিতে পারিল এই তাহার সৌভাগ্য । এমন করিয়া চার-পাচ বছর কোথা দিয়া যে কেমন করিয়া কটিয়া গেল তাহা চোখে দেখিতে পাইলাম না । সমস্ত জীবনই এমনি করিয়া কাটিতে পারিত। কিন্তু, গোপনে কোথায় একটা চুরি চলিতেছিল, সেটা আমার কাছে ধরা পড়ে নাই, অন্তৰ্বামীর কাছে ধরা পড়িল। তারপর একদিনে একটি মুহূর্তে সমস্ত উলটপালট হইয়া গেল। সেদিন ফাস্তুনের সকালবেলায় ঘাটে যাইবার ছায়াপথে স্নান সারিয়া ভিজা-কাপড়ে ঘরে ফিরিতেছিলাম। পথের একটি বাকে আমতলায় গুরুঠাকুরের সঙ্গে দেখা । তিনি কাধে একখানি গামছা লইয়া কোন-একটা সংস্কৃত মন্ত্র আবৃত্তি করিতে করিতে স্বানে थाहेUठ८छ्न् । ভিজ-কাপড়ে তার সঙ্গে দেখা হওয়াতে লজ্জায় একটু পাশ কাটাইয়া চলিয়া যাইবার চেষ্টা করিতেছি, এমন সময়ে তিনি আমার নাম ধরিয়া ডাকিলেন । আমি জড়োসড়ো হইয়া মাথা নিচু করিয়া দাড়াইলাম। তিনি আমার মুখের পরে দৃষ্টি রাখিয়। বলিলেন, “তোমার দেহখানি সুন্দর।” ডালে ডালে রাজ্যের পাখি ডাকিতেছিল, পথের ধারে ধারে ঝোপে-ঝাপে ভাটি ফুল ফুটিয়াছে, আমের ডালে বোল ধরিতেছে। মনে হইল, সমস্ত আকাশ-পাতাল পাগল