পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ত্রয়োবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/২৬১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


रै ¢ ० রবীন্দ্র-রচনাবলী ছঃখ পেতেই হবে, এইটে যদি তোমাদের ব্যবস্থা হয়, তাহলে যতদূর সম্ভব তাকে অনাদরে রেখে দেওয়াই ভালো ; আদরে দুঃখের ব্যথাটা কেবল বেড়ে ওঠে। যেমন করেই রাখ, দুঃখ যে আছে, এ কথা মনে করবার কথাও কোনোদিন মনে আসে নি। আঁতুড়ঘরে মরণ মাথার কাছে এসে দাড়াল, মনে ভয়ই হল না। জীবন আমাদের কীই বা যে মরণকে ভয় করতে হবে ? অাদরে যত্বে যাদের প্রাণের বঁাধন শক্ত করেছে মরতে তাদেরই বাধে। সেদিন যম যদি আমাকে ধরে টান দিত তাহলে আলগা মাটি থেকে যেমন অতি সহজে ঘাসের চাপড় উঠে আসে সমস্ত শিকড়স্বদ্ধ আমি তেমনি করে উঠে আসতুম। বাঙালির মেয়ে তো কথায় কথায় মরতে যায়। কিন্তু, এমন মরায় বাহাদুরিট কী। মরতে লজ্জা হয় ; আমাদের পক্ষে ওটা এতই সহজ । আমার মেয়েটি তো সন্ধ্যা তারার মতো ক্ষণকালের জন্যে উদয় হয়েই অস্ত গেল । আবার আমার নিত্যকর্ম এবং গোরুবাছুর নিয়ে পড়লুম। জীবন তেমনি করেই গড়াতে গড়াতে শেষ পর্যন্ত কেটে যেত ; আজকে তোমাকে এই চিঠি লেখবার দরকারই হত ন। কিন্তু, বাতাসে সামান্য একটা বীজ উড়িয়ে নিয়ে এসে পাকা দালানের মধ্যে অশথগাছের অঙ্কুর বের করে ; শেষকালে সেইটুকু থেকে ইটকাঠের বুকের পাজর বিদীর্ণ হয়ে যায়। আমার সংসারের পাক বন্দোবস্তের মাঝখানে ছোটো একটুখানি জীবনের কণা কোথা থেকে উড়ে এসে পড়ল ; তার পর থেকে ফাটল শুরু হল। বিধবা মার মুতু্যুর পরে আমার বড়ে জায়ের বোন বিন্দু তার খুড়ততে ভাইদের অত্যাচারে আমাদের বাড়িতে তার দিদির কাছে এসে যেদিন আশ্রয় নিলে, তোমরা সেদিন ভাবলে, এ আবার কোথাকার আপদ । আমার পোড়া স্বভাব, কী করব বলে— দেখলুম, তোমরা সকলেই মনে মনে বিরক্ত হয়ে উঠেছ, সেই জন্যেই এই নিরাশ্রয় মেয়েটির পাশে আমার সমস্ত মন যেন একেবারে কোমর বেঁধে দড়িাল। পরের বাড়িতে পরের অনিচ্ছাতে এসে আশ্রয় নেওয়া— সে কতবড়ো অপমান । দায়ে পড়ে সে ও যাকে স্বীকার করতে হল, তাকে কি এক পাণে ঠেলে রাখা যায়। 啤 তার পরে দেখলুম আমার বড়ো জায়ের দশা। তিনি নিতান্ত দরদে পড়ে বোনটিকে নিজের কাছে এনেছেন । কিন্তু, যখন দেখলেন স্বামীর অনিচ্ছা, তখন এমনি ভাব করতে লাগলেন, যেন এ তার এক বিষম বালাই, যেন একে দূর করতে পারলেই তিনি বাচেন। এই অনাথ বোনটিকে মন খুলে প্রকাশ্বে স্নেহ দেখবেন, সে সাহস তার হল না। তিনি পতিব্ৰতা । র্তার এই সংকট দেখে আমার মন আরও ব্যথিত হয়ে উঠল। দেখলুম, বড়ো জ৷ সকলকে একটু বিশেষ করে দেখিয়ে দেখিয়ে বিন্দুর খাওয়াপরার এমনি মোটারকমের