পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ত্রয়োবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/২৮৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


২৭৪ রবীন্দ্র-রচনাবলী করে, কোনো উপকরণের দরকার হয় না। স্ববোধের উপর কেবলই বিরক্ত হইয়া ওঠা আমার মনের এমনি অভ্যাস হইয়াছিল যে, সেটা ত্যাগ করা আমার সাধ্যই ছিল না । এমনি করিয়া পাঁচ বছর কাটিল । স্ববোধের বয়স যখন বারো তখন তার কোম্পানির কাগজ এবং গহনাপত্র গলিয়া গিয়া আমার হিসাবের খাতার গোটাকতক কালীর অঙ্কে পরিণত হইল । মনকে বুঝাইলাম, অতু তো উইলে আমাকেই টাকা দিয়াছে। মাঝখানে স্ববোধ আছে বটে, কিন্তু ও তো ছায়া, নাই বলিলেই হয়। যে টাকাটা নিশ্চয়ই পাইব সেটাকে আগেভাগে খরচ করিলে অধৰ্ম হয় না । অল্প বয়স হইতেই আমার বাতের ব্যামো ছিল । কিছুদিন হইতে সেইটে অত্যন্ত বাড়িয়া উঠিয়াছে। যারা কাজের লোক তাদের স্থির করিয়া রাখিলে তার চারি দিকের সমস্ত লোককে অস্থির করিয়া তোলে। সে কয়দিন আমার স্ত্রী, আমার ছেলে, স্থবোধ, বাড়ির চাকরবাকর কার ও শাস্তি ছিল ন} । এদিকে আমার পরিচিত যে কয়জন বিধবা আমার কাছে টাকা রাখিয়াছিল কয়েক মাস তাদের স্বদ বন্ধ। পূর্বে এমন কখনো ঘটিতে দিই নাই । এইজন্য তারা উদবিগ্ন হইয়া আমাকে তাগিদ করিতেছে। অামি প্রসন্নকে তাগিদ করি, সে কেবলই দিন ফিরায় । অবশেষে যেদিন নিশ্চিত দিবার কথা সেদিন সকাল হইতে পাওনাদারর। বসিয়া আছে, প্রসন্নর দেখা নাই । নিত্যকে বলিলাম *স্থবোধকে ডাকিয়া দাও।” সে বলিল, “স্ববোধ শুইয়া আছে।” আমি মহা রাগিয়া বলিলাম, "শুইয়া আছে ? এখন বেলা এগারোটা, এখন সে শুইয়া আছে !” সুবোধ ভয়ে ভয়ে আসিয়া উপস্থিত হইল। আমি বলিলাম, "প্রসন্নকে যেখানে পাও ডাকিয়া আনে ৷” সর্বদা আমার ফাইফরমাশ খাটিয়া স্থবোধ এ-সকল কাজে পাকা হইয়াছিল। কাকে কোথায় সন্ধান করিতে হইবে, সমস্তই তার জানা । বেলা একটা হইল, দুটা হইল, তিনটা হইল, স্থবোধ আর ফেরে না। এদিকে ধারা ধন্ন দিয়া বসিয়া আছে তাদের ভাষার তাপ এবং বেগ বাড়িয়া উঠিতে লাগিল । কোনোমতেই স্থবোধটার গড়িমসি চালঘুচাইতে পারিলাম না। যতদিন যাইতেছে ততই তার ঢিলামি আরও যেন বাড়িয়া উঠিতেছে । আজকাল সে বসিতে পারিলে উঠিতে